উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট

আপনার শখের কম্পিউটারটি কি দিন দিন কচ্ছপের মতো ধীরগতির হয়ে যাচ্ছে, আর কাজের সময় বারবার হ্যাং করে মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে? চিন্তা নেই, আজ এমন কিছু গোপন সেটিং জানবো যা আপনার পিসির গতিকে রকেটের মতো বাড়িয়ে দেবে!

উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট

শুধু সাধারণ কিছু নিয়মে আটকে না থেকে, আজ আমরা কম্পিউটারের একেবারে ভেতরে ঢুকে কাজ করবো। জানতে চান সেই জাদুকরী উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট ঠিক কীভাবে কাজ করে? চলুন, পিসির স্পিড আনলক করার গভীরে প্রবেশ করা যাক...

পেজ সূচিপএঃ উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট

রেজিস্ট্রি এডিটর (Registry Editor) আসলে কী?

কম্পিউটারের বিশাল ও জটিল জগতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের অন্যতম একটি গোপন, শক্তিশালী ও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই রেজিস্ট্রি এডিটর। সহজ কথায়, একে আপনি আপনার পিসির মস্তিষ্ক বা প্রধান কন্ট্রোল রুম বলতে পারেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং আপনার ইন্সটল করা যাবতীয় থার্ড-পার্টি সফটওয়্যারের সকল সেটিং, কনফিগারেশন এবং নিয়মকানুন এই একটি জায়গাতেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ ইউজাররা এই কন্ট্রোল রুমের সঠিক ব্যবহার ও ক্ষমতা না জানায়, নিজেদের অজান্তেই অনেক অসাধারণ সুবিধা থেকে আজীবন বঞ্চিত থেকে যান।

যখনই আপনি নতুন কোনো সফটওয়্যার আপনার পিসিতে ইন্সটল করেন, কিংবা কম্পিউটারের ছোটোখাটো কোনো সাধারণ সেটিং পরিবর্তন করেন, তার সবকিছুই মূলত এই ডাটাবেস বা রেজিস্ট্রি ফাইলে গিয়ে জমা হয়। অর্থাৎ, আপনার সিস্টেমের প্রতিটি কাজের রেকর্ড এখানে থাকে। আর এই ফাইলের ভেতর লুকানো কিছু নির্দিষ্ট ও স্পেসিফিক ভ্যালু পরিবর্তন করেই আমরা সিস্টেমের প্রকৃত স্পিড আনলক করতে পারি। তবে সঠিক জ্ঞান বা গাইডলাইন ছাড়া এখানে এলোমেলো হাত দেওয়াটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ একটি ভুল কমান্ড পুরো অপারেটিং সিস্টেমকে অচল করে দিতে পারে।

তাই 'উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট' সম্পর্কে একদম পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা থাকাটা কাজ শুরুর আগে সবার প্রথমে দরকার। রেজিস্ট্রি এডিটর মূলত উইন্ডোজের হার্টবিট, যা ঠিকমতো টিউন করতে পারলে আপনার পুরনো পিসিও নতুনের মতো পারফর্ম করবে। এটি কোনো জাদুর কাঠি নয়, বরং মাইক্রোসফটেরই দেওয়া একটি হিডেন টুলস, যা এক্সপার্টরা সবসময় ব্যবহার করেন। চলুন, এরপর আমরা জানবো কেন এই টুলসটি আপনার প্রতিদিনের পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে...

উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট কেন করবেন?

সাধারণ মানুষ যখন দেখেন তাদের শখের কম্পিউটারটি খুব স্লো হয়ে গেছে বা কাজ করতে গিয়ে বারবার হ্যাং করছে, তখন প্রথমেই তারা র‍্যাম (RAM) বা এসএসডি (SSD) বাড়ানোর মতো ভারী খরচের কথা ভাবেন। কিন্তু হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করার পেছনে টাকা ঢালার আগে, উইন্ডোজ সফটওয়্যারের ভেতরেই যে বিশাল এক স্পিড আপ করার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, তা বেশিরভাগ মানুষই এড়িয়ে যান বা জানেন না। এই কারণেই মূলত উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট আপনার প্রথম, প্রধান এবং বিনা খরচের পদক্ষেপ হওয়া উচিত। এটি সাধারণ উইন্ডোজ সেটিং পরিবর্তনের চেয়ে বহুগুণ বেশি পাওয়ারফুল এবং ডিরেক্ট কাজ করে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইন Canva সেল জব মাসিক ৮০০০ টাকা বেতন

এই পদ্ধতিগুলো কেন অন্যান্য সাধারণ ট্রিকস বা সেটিং থেকে এত জাদুকরীভাবে এবং দ্রুত কাজ করে, তার বেশ কিছু শক্ত কারণ রয়েছে। প্রথমত, কোনো বাড়তি টাকা খরচ না করেই পিসির গতি রাতারাতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়া যায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় এবং বিরক্তিকর ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বা সার্ভিসগুলো, যা আপনার র‍্যাম খেয়ে বসে থাকে, সেগুলোকে একেবারে শেকড় থেকে পারমানেন্টলি বন্ধ করা সম্ভব হয়। এর ফলে আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তার হার্ডওয়্যারের সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।

দুর্বল পিসি ফাস্ট করার কার্যকরী উপায় হিসেবে এটি হার্ডওয়্যারের ওপর অযথা প্রসেসিং চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমায়। উপরে উল্লেখিত এই অসাধারণ এবং প্র্যাকটিক্যাল সুবিধাগুলো পাওয়ার জন্যই মূলত বিশ্বজুড়ে টেক এক্সপার্টরা সাধারণ সেটিংসের বদলে রেজিস্ট্রি নিয়ে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন। আপনার পিসির লুকানো ক্ষমতাগুলো যখন এই ট্রিকসগুলোর মাধ্যমে একে একে আনলক হতে শুরু করবে, তখন এর স্মুথ পারফরম্যান্স দেখে আপনি নিজেই নিশ্চিত চমকে যাবেন। তবে এই জাদুকরী দুনিয়ায় প্র্যাকটিক্যালি কাজ শুরু করার আগে আমাদের একটি ছোট্ট কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জানতে চান আপনার পিসির সুরক্ষার জন্য সেই অতি-গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ঠিক কী?

কাজ শুরুর আগে সতর্কতা: রেজিস্ট্রি ব্যাকআপ নেওয়ার নিয়ম

রেজিস্ট্রি এডিটর নিয়ে কাজ করা অনেকটা দক্ষ সার্জনদের সূক্ষ্ম অপারেশনের মতো, যেখানে একটু এদিক সেদিক হলেই বা ভুল কমান্ড পড়লেই পুরো অপারেটিং সিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্র্যাশ করতে পারে। তাই উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট করার আগে সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রির একটি ফুল ব্যাকআপ পিসিতে নিয়ে রাখা ১০০% বাধ্যতামূলক একটি কাজ। এটি আপনার কম্পিউটারের জন্য একটি অদৃশ্য লাইফ জ্যাকেট বা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, যা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পিসিকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে। তাহলে চলুন, একদম সহজ ও সাধারণ ধাপে শিখে নিই কীভাবে এই লাইফ জ্যাকেটটি আপনার পিসির জন্য তৈরি করে নিতে হয়।

  • প্রথমে আপনার কম্পিউটারের কীবোর্ড থেকে Windows + R বাটন দুটি একসাথে চেপে রান প্যানেল ওপেন করুন।
  • এরপর যে Run ডায়লগ বক্সটি আপনার স্ক্রিনে আসবে, সেখানে ঠিক এই লেখাটি regedit টাইপ করে Enter বাটনে প্রেস করুন।
  • স্ক্রিনে যদি উইন্ডোজের তরফ থেকে কোনো পারমিশন বা ওয়ার্নিং মেসেজ চায়, তবে নির্দ্বিধায় 'Yes' বাটনে ক্লিক করে সামনে এগিয়ে যান।
  • এবার যে উইন্ডোটি খুলবে, তার একদম উপরের বাম কোণায় থাকা "File" মেনুতে ক্লিক করে ড্রপডাউন থেকে "Export" অপশনটি সযত্নে বেছে নিন।

Export-এ ক্লিক করার পর একটি নতুন পপ-আপ সেভ উইন্ডো আপনার সামনে আসবে, যেখানে নিচে "Export range" নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে অবশ্যই "All" সিলেক্ট করবেন, কোনো নির্দিষ্ট ফোল্ডার নয়, এবং ফাইলটি পিসির যেকোনো সেফ ড্রাইভে একটি সুন্দর নাম দিয়ে সেভ করে রাখুন। ব্যাস, আপনার পিসির সম্পূর্ণ কোর সেটিং এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত এবং আপনার কন্ট্রোলে! যদি ভবিষ্যতে কখনো কোনো ভ্যালু এডিট করতে গিয়ে ভুল হয়েও যায়, তবে এই সেভ করা ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করলেই সবকিছু জাদুর মতো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এখন যেহেতু আমরা ব্যাকআপ নিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাই ল্যাগ ফ্রি উইন্ডোজ ১০/১১ সেটিং এর মূল কাজগুলো এবার হাতে-কলমে শুরু করা যাক...

ট্রিক ১: মেনু শো ডিলে (Menu Show Delay) কমিয়ে পিসি ফাস্ট করা

আপনি কি কখনো খেয়াল করে দেখেছেন, যখনই উইন্ডোজে কোনো ফাইলের ওপর রাইট ক্লিক করেন বা স্টার্ট মেনুর কোনো অপশনে মাউস রাখেন, সেটি খুলতে সামান্য একটু ফ্র্যাকশন অব সেকেন্ড সময় নেয়? এটি মূলত মাইক্রোসফটের দেওয়া একটি ডিফল্ট অ্যানিমেশন ডিলে টাইম, যা পিসিকে ইউজারদের কাছে কাজের সময় কিছুটা স্লো এবং আনরেস্পন্সিভ অনুভব করায়। আমরা আমাদের এই প্রথম উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট প্রয়োগ করে এই অহেতুক ডিলে টাইম একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনবো। এর ফলে মাউস রাখার সাথে সাথেই চোখের পলকে মেনুগুলো ঝড়ের বেগে আপনার স্ক্রিনে খুলে যাবে।

এই নির্দিষ্ট এবং পাওয়ারফুল ম্যাজিকটি পিসিতে কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন, তা ধাপে ধাপে নিচে আলোচনা করা হলো। খুব সাবধানে লোকেশনগুলো ফলো করবেন।

  • রেজিস্ট্রি এডিটর ওপেন করে উপরের এড্রেস বারে এই লোকেশনটি হুবহু কপি করে পেস্ট করুন এবং এন্টার দিন: HKEY_CURRENT_USER\Control Panel\Desktop
  • এবার ডান পাশের বড় প্যানেল থেকে MenuShowDelay নামের ফাইলটি স্ক্রল করে একটু মনোযোগ দিয়ে খুঁজে বের করুন।
  • ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে এটি ওপেন করুন এবং এর Value data বক্সটি খেয়াল করুন। সেখানে ৪০০ (ডিফল্ট) লেখা থাকবে, সেটি মুছে ১০ বা ২০ করে দিন।
  • পরিশেষে একদম নিচে থাকা OK বাটনে ক্লিক করে ফাইলটি সাকসেসফুলি সেভ করে নিন।

ভ্যালু পরিবর্তন করে ওকে করার মাধ্যমেই আমাদের এই প্রথম ও সহজ ট্রিকটির কাজ একদম সফলভাবে শেষ হলো। আপনি হয়তো ভাবছেন, মাত্র এতটুকু ছোট এবং সিম্পল পরিবর্তনে কি আসলেই পিসির ডে-টু-ডে পারফরম্যান্সে কোনো বড় প্রভাব পড়বে? এটি মূলত আপনার প্রতিদিনের ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে চরম লেভেলে ফাস্ট এবং রেস্পন্সিভ করে দেয়, যা আপনি পিসিটি একবার রিস্টার্ট দেওয়ার পরেই নিজের চোখে একেবারে স্পষ্ট দেখতে পাবেন। তবে আসল চমক তো এখনো আমাদের হাতে রয়েই গেছে, আপনার পিসি চালু হওয়ার বিরক্তিকর সময়টাকে কীভাবে রকেটের গতি দেবো তা কি জানেন?

ট্রিক ২: স্টার্টআপ ডিলে (Startup Delay) জিরো করে দ্রুত বুট করা

আমাদের অনেকেরই একটি খুব কমন এবং হতাশাজনক অভিযোগ থাকে যে, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের পাওয়ার বাটন চাপার পর উইন্ডোজ পুরোপুরি লোড হয়ে রেডি হতে যেন যুগের পর যুগ সময় লেগে যায়! উইন্ডোজ মূলত স্টার্টআপ অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে লোড করার জন্য সিস্টেমের ভেতর ইচ্ছা করেই কিছুটা ডিলে বা কয়েক সেকেন্ডের বিরতি তৈরি করে রাখে। এই দ্বিতীয় উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট এর মাধ্যমে আমরা উইন্ডোজের সেই অহেতুক স্টার্টআপ ডিলে টাইম চিরতরে এবং পারমানেন্টলি বন্ধ করে দেবো। এর ফলে আপনার অপারেটিং সিস্টেম সরাসরি এবং দ্রুততম সময়ে বুট হয়ে কাজের জন্য রেডি হবে।

এর জন্য আমাদের রেজিস্ট্রি এডিটরের ঠিক কোথায় যেতে হবে এবং কী পরিবর্তন করতে হবে, তা নিচের পয়েন্টগুলোতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো:

  • প্রথমে রেজিস্ট্রি এডিটরে গিয়ে উপরের বারে সরাসরি এই লোকেশনটি পেস্ট করুন: HKEY_CURRENT_USER\Software\Microsoft\Windows\CurrentVersion\Explorer\Serialize
  • যদি কোনো কারণে আপনার পিসিতে Serialize নামের ফোল্ডারটি আগে থেকে না থাকে, তবে Explorer ফোল্ডারের ওপর রাইট ক্লিক করে 'New > Key' তে গিয়ে নতুন ফোল্ডার তৈরি করুন এবং নাম দিন Serialize।
  • এবার সেই Serialize ফোল্ডারের ডান পাশের ফাঁকা জায়গায় রাইট ক্লিক করে 'New' থেকে একটি নতুন DWORD (32-bit) Value ফাইল তৈরি করুন।
  • নতুন তৈরি করা ফাইলটির নাম রিনেম করে দিন StartupDelayInMSec এবং ডাবল ক্লিক করে এর Value data বক্সে 0 (শূন্য) লিখে ওকে করুন।

এই চমৎকার উইন্ডোজ অপ্টিমাইজেশন রেজিস্ট্রি এডিটর টিউটোরিয়ালটি সঠিকভাবে এবং নির্ভুলভাবে অনুসরণ করলে আপনার পিসির বুট টাইম জাদুর মতো কমে আসবে। স্লো ল্যাপটপ সুপার ফাস্ট করার ম্যাজিক ট্রিক হিসেবে এই পদ্ধতিটি সারাবিশ্বজুড়ে গেমার এবং টেক এক্সপার্টদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এবং পরীক্ষিত একটি হ্যাক। মাত্র দুটি ছোট ট্রিক প্রয়োগ করেই যদি আপনার পিসিতে এমন বিশাল এবং চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে, তবে ভাবুন বাকি ট্রিকগুলো আপনার সিস্টেমকে কতটা শক্তিশালী করে তুলবে! আপনি কি আপনার পিসিকে আরও ফাস্ট করতে পরবর্তী সেই জাদুকরী ধাপগুলোর দিকে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত?

ট্রিক ৩: উইন্ডোজের অদরকারী এনিমেশন বন্ধ করা

উইন্ডোজের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য মাইক্রোসফট ডিফল্টভাবে বেশ কিছু ভারী এনিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট চালু করে রাখে। এই ইফেক্টগুলো দেখতে চমৎকার হলেও, এগুলো আপনার প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স কার্ডের ওপর সারাক্ষণ মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যাদের পিসির কনফিগারেশন একটু দুর্বল, তাদের জন্য এই সৌন্দর্যই সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সিস্টেমের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি মাত্র সেটিং পরিবর্তন করেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব?

এই অহেতুক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টগুলো পারমানেন্টলি ডিসেবল করার জন্যই মূলত উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট এর তৃতীয় ট্রিকটি আমরা ব্যবহার করবো। এই জাদুকরী ট্রিকটি প্রয়োগ করলে মেনু খোলা, উইন্ডো মিনিমাইজ বা ম্যাক্সিমাইজ করার সময় যে ল্যাগ হতো, তা মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাবে। আপনার মনে হবে যেন পুরোনো পিসিতে একেবারে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। চলুন, দেরি না করে এই শক্তিশালী এবং ম্যাজিকাল রেজিস্ট্রি হ্যাকটি ধাপে ধাপে অ্যাপ্লাই করে ফেলি...

  • এই সেটিংটি পরিবর্তন করার জন্য খুব সাবধানে নিচের বুলেট পয়েন্টগুলো অনুসরণ করুন:
  • প্রথমে কীবোর্ড থেকে Windows + R চেপে Run ওপেন করে regedit লিখুন।
  • এবার লোকেশন বারে HKEY_CURRENT_USER\Control Panel\Desktop\WindowMetrics পেস্ট করুন।
  • ডানপাশের প্যানেল থেকে MinAnimate ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে ভ্যালু 1 থেকে 0 করে দিন। এই ছোট্ট ভ্যালু পরিবর্তনের মাধ্যমেই মূলত উইন্ডোজকে আমরা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছি সব ফালতু এনিমেশন বন্ধ করার জন্য। কিন্তু শুধুমাত্র এনিমেশন বন্ধ করেই কি আপনার পিসির সম্পূর্ণ স্পিড ফিরে আসবে?

এনিমেশন বন্ধ করার পর পিসি একবার রিস্টার্ট দিলে আপনি এর অভাবনীয় স্পিড নিজের চোখেই স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। উইন্ডোজ ১০/১১ ল্যাগ কমানোর সহজ পদ্ধতি গুলোর মধ্যে এটি সবসময় টেক এক্সপার্টদের পছন্দের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে থাকে। তবে শুধু চোখের সামনের বাধা সরালেই হবে না, পর্দার আড়ালেও অনেক ক্ষতিকর জিনিস লুকিয়ে আছে। আপনার অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে কারা আপনার পিসির মূল্যবান র‍্যাম খেয়ে ফেলছে তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

ট্রিক ৪: ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস লিমিট করে র‍্যাম ফ্রি রাখা

আপনি যখনই পিসি চালু করেন, আপনার কোনোরূপ অনুমতি ছাড়াই বেশ কিছু অ্যাপ এবং সার্ভিস ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে চালু হয়ে যায়। এগুলো সারাক্ষণ আপনার প্রসেসর এবং র‍্যামের একটা বড় অংশ দখল করে বসে থাকে, যা পিসিকে মারাত্মক স্লো করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই আমাদের আরও একটি জাদুকরী উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট প্রয়োগ করতে হবে। আপনি কি জানেন এই হিডেন অ্যাপগুলো আপনার কতটুকু মেমোরি প্রতিদিন নষ্ট করছে?

এই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসগুলো বন্ধ করার সাধারণ উপায় উইন্ডোজ সেটিংসে থাকলেও, অনেক সময় সেগুলো ভাইরাসের মতো আবার নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়। তাই রেজিস্ট্রি এডিটরের মাধ্যমে একেবারে শেকড় থেকে এগুলোকে পারমানেন্টলি ডিসেবল করে দেওয়াই হলো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। দুর্বল পিসি ফাস্ট করার কার্যকরী উপায় হিসেবে এটি র‍্যামকে সবসময় ফ্রি এবং রিফ্রেশড রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে। এই জাদুকরী ট্রিকটি আপনার পিসিতে কীভাবে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে দেখতে চান?

এই সেটিংটি পরিবর্তন করার জন্য নিচের স্টেপগুলো একেবারে হুবহু ফলো করুন:

  • রেজিস্ট্রি এডিটরে গিয়ে HKEY_LOCAL_MACHINE\SOFTWARE\Policies\Microsoft\Windows লোকেশনে যান।
  • Windows ফোল্ডারে রাইট ক্লিক করে New > Key থেকে AppPrivacy নামের ফোল্ডার বানান।
  • ডানে রাইট ক্লিক করে LetAppsRunInBackground নামের একটি নতুন DWORD ফাইল তৈরি করুন। এই ফাইলটি তৈরি করা হয়ে গেলে আমাদের মূল কাজ শুরু হবে। কিন্তু ফাইলের ভ্যালু কত দিলে এই বিরক্তিকর অ্যাপগুলো চিরতরে বন্ধ হবে?

নতুন তৈরি করা LetAppsRunInBackground ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে সাবধানে ওপেন করুন। এর Value Data বক্সে 2 (দুই) লিখে ওকে বাটনে ক্লিক করে সুন্দরভাবে সেভ করে দিন। এই 2 ভ্যালুটি উইন্ডোজকে কড়া নির্দেশ দেয় যেন কোনো অ্যাপ ইউজারের অনুমতি ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে স্পেস নিতে না পারে। এর ফলে আপনার সিস্টেমের সম্পূর্ণ র‍্যাম শুধুমাত্র আপনার বর্তমান কাজের জন্যই ডেডিকেটেড থাকবে। তবে আপনার ইন্টারনেট স্পিড কি পিসির এই গতির সাথে তাল মেলাতে পারবে?

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস বন্ধ হওয়ার কারণে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ওপর থেকেও বিশাল একটা চাপ কমে যায়, যা ব্রাউজিংকে মুহূর্তেই ফাস্ট করে তোলে। ল্যাগ ফ্রি উইন্ডোজ ১০/১১ সেটিং হিসেবে এই ট্রিকটি আপনার প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় এক বিশাল পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এখন পিসি তো ফাস্ট হলো, কিন্তু ডাউনলোডের গতি কেন এখনো আগের মতোই স্লো দেখাচ্ছে? চলুন, উইন্ডোজের নেটওয়ার্ক স্পিডের আরেকটি গোপন রহস্য উন্মোচন করা যাক...

ট্রিক ৫: নেটওয়ার্ক স্পিড থ্রটলিং বন্ধ করে ইন্টারনেট ফাস্ট করা

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ডিফল্টভাবে মাল্টিমিডিয়া টাস্ক এবং অন্যান্য ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিসের জন্য আপনার ইন্টারনেটের প্রায় ২০% ব্যান্ডউইথ আটকে বা থ্রটল করে রাখে। এর মানে হলো, আপনি ইন্টারনেটের জন্য যে টাকা দিচ্ছেন, তার পুরো স্পিড আপনি কখনোই আপনার পিসিতে ব্যবহার করতে পারছেন না! এই কৃত্রিম স্পিড লিমিট ভেঙে ফেলার জন্যই একটি বিশেষ উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট জানা থাকাটা আপনার জন্য ভীষণ জরুরি। কীভাবে এই অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে ইন্টারনেটের আসল স্পিড পুরোপুরি আনলক করবেন?

উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট

এই লিমিটেশন দূর করার জন্য সরাসরি রেজিস্ট্রি এডিটরে এই এড্রেসটি পেস্ট করুন: HKEY_LOCAL_MACHINE\SOFTWARE\Microsoft\Windows NT\CurrentVersion\Multimedia\SystemProfile। এবার ডান পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে NetworkThrottlingIndex নামের ফাইলটি খুঁজে বের করে তাতে ডাবল ক্লিক করুন। এর ভ্যালু বক্সে a (ডিফল্ট) লেখা মুছে সেখানে ffffffff (আটটি f) লিখে সুন্দর করে ওকে করে দিন। এই একটি কমান্ড আপনার পিসির আটকে থাকা ইন্টারনেট স্পিডকে রকেটের মতো বুস্ট করতে সক্ষম। কিন্তু এরপরও কি পিসির স্পিড নিয়ে আরও কিছু জানার বাকি থেকে যায়?

এই সেটিংটি পরিবর্তনের পর যেকোনো বড় ফাইল ডাউনলোড বা অনলাইন গেমিংয়ের সময় আপনি পিং (Ping) ড্রপ এবং ল্যাগিংয়ের পার্থক্যটা খুব সহজেই ধরতে পারবেন। উইন্ডোজ সুপার ফাস্ট করার ট্রিকস গুলোর মধ্যে এটি নেটওয়ার্ক লেভেলের সবচেয়ে সেরা এবং সিক্রেট একটি কার্যকরী অপ্টিমাইজেশন। এতক্ষণ আমরা জেনারেল স্পিড নিয়ে অনেক কথা বললাম, কিন্তু অপারেটিং সিস্টেমের ভার্সন অনুযায়ী কি এই ট্রিকসগুলোর কোনো পরিবর্তন হতে পারে?

উইন্ডোজ ১০ এবং ১১ এর মধ্যে রেজিস্ট্রি এডিটের পার্থক্য

উইন্ডোজ ১০ থেকে ১১ তে আপডেট হওয়ার পর মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেমের আর্কিটেকচারে বেশ কিছু বড় এবং ভিজ্যুয়াল পরিবর্তন এনেছে। অনেকেই কনফিউজড থাকেন যে, আগের ভার্সনের সেই পুরোনো ট্রিকসগুলো নতুন সিস্টেমে ঠিক একইভাবে বা স্মুথলি কাজ করবে কিনা। সত্যি বলতে, কোর সিস্টেমের খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় বেশিরভাগ উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট দুই ভার্সনেই সমানভাবে কার্যকরী। তবে কিছু স্পেসিফিক সেটিংসে পার্থক্য থাকাটা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক একটি বিষয়। সেই কনফিউজিং পার্থক্যগুলো আসলে কী কী?

উইন্ডোজ ১১ এর নতুন রাইট-ক্লিক কন্টেক্সট মেনু বা টাস্কবারের এনিমেশন কন্ট্রোল করার জন্য রেজিস্ট্রি লোকেশনগুলো উইন্ডোজ ১০ থেকে কিছুটা আলাদা জায়গায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, উইন্ডোজ ১১ তে পুরোনো স্টাইলের ক্লাসিক মেনু ফিরিয়ে আনতে স্পেশাল কিছু রেজিস্ট্রি কমান্ড ব্যবহার করতে হয়, যা ১০ এ দরকার পড়ে না। উইন্ডোজ অপ্টিমাইজেশন রেজিস্ট্রি এডিটর টিউটোরিয়াল ফলো করার সময় আপনার উইন্ডোজ ভার্সন অনুযায়ী এই লোকেশনগুলো একটু সতর্কতার সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। ভুল লোকেশনে কমান্ড দিলে আপনার পিসিতে কী ধরনের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে জানেন কি?

আরো পড়ুনঃ ওয়েবসাইট তৈরি করুন বিনামূল্যে ব্লগার,ওয়ার্ডপ্রেস স্টেপ বাই স্টেপ

আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ এর একটি স্পেসিফিক রেজিস্ট্রি কমান্ড ভুল করে উইন্ডোজ ১১ এর অন্য কোনো লোকেশনে বসিয়ে দেন, তবে আপনার অপারেটিং সিস্টেমটি ক্র্যাশ করতে পারে। তাই যেকোনো এডিট করার আগে আমরা যে ব্যাকআপ নেওয়ার নিয়মটি শিখেছিলাম, তা এই ভার্সন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এবং জাদুকরীভাবে কাজে দেয়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বেসিক স্পিড আপ ট্রিকসগুলো সব ভার্সনেই সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ১০০% ল্যাগ-ফ্রি রেজাল্ট দিতে সক্ষম। তবে যারা পিসিতে হেভি গ্রাফিক্সের গেমিং করেন, তাদের জন্য কি আলাদা কোনো সেটিং আছে?

সাধারণ ইউজারদের জন্য উপরের ট্রিকসগুলোই যথেষ্ট হলেও, যারা প্রফেশনাল গেমার তাদের জন্য দরকার এক্সট্রিম লেভেলের নিরবচ্ছিন্ন হার্ডওয়্যার পারফরম্যান্স। গেমিংয়ের সময় সামান্যতম ফ্রেম ড্রপ বা মাউসের ল্যাগ পুরো ম্যাচের রেজাল্ট চোখের পলকে পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তাই শুধুমাত্র গেমারদের স্পেশাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেজিস্ট্রি এডিটরে বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ হিডেন পাওয়ার দেওয়া আছে। জানতে চান সেই সিক্রেট গেমিং রেজিস্ট্রি হ্যাকগুলো কীভাবে আপনার গেমিং এক্সপেরিয়েন্সকে নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাবে?

গেমিং এর জন্য স্পেশাল উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি হ্যাক

গেমারদের জন্য পিসির রেসপন্স টাইম বা ল্যাটেন্সি কমানোটা গ্রাফিক্স কোয়ালিটির চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেনসিটিভ একটি বিষয়। মাইক্রোসফট পিসির পাওয়ার সেভ করার জন্য অনেক সময় সিপিইউ এর ফুল পাওয়ার ব্যবহার করা থেকে সিস্টেমকে বিরত থাকে, যা গেমিংয়ে বাধা দেয়। এই বাধা কাটানোর জন্যই গেমাররা একটি বিশেষ এবং পাওয়ারফুল উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট ব্যবহার করে থাকেন। এই হ্যাকটি আপনার প্রসেসরকে বাধ্য করবে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা শুধুমাত্র গেমে ফোকাস করতে। কীভাবে এই এক্সট্রিম স্পিড মোডটি পিসিতে চালু করবেন?

গেমিং পারফরম্যান্স ম্যাক্সিমাইজ করতে আমাদের সিস্টেম প্রোফাইলিংয়ের একটি ছোট কিন্তু ভীষণ গভীর পরিবর্তন করতে হবে।

  • প্রথমে HKEY_LOCAL_MACHINE\SOFTWARE\Microsoft\Windows NT\CurrentVersion\Multimedia\SystemProfile\Tasks\Games এ যান।
  • ডানপাশের প্যানেল থেকে GPU Priority ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে ভ্যালু 8 করে দিন।
  • এরপর Priority ফাইলের ভ্যালু চেঞ্জ করে 6 টাইপ করে সেভ করুন। এই কমান্ডগুলোর পর আপনার গ্রাফিক্স কার্ড আর কোনো কাজেই বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু প্রসেসরের স্পিড কীভাবে বাড়াবো?

সিপিইউ এর রেসপন্স টাইম আরও কমানোর জন্য ঠিক একই লোকেশনে থাকা Scheduling Category ফাইলটিতে ওপেন করে ডাবল ক্লিক করুন। এর ভ্যালু বক্সে 'High' লিখে ওকে করুন, যা আপনার সিস্টেমকে ক্লিয়ার সিগন্যাল দেবে যে গেমিং এখন আপনার সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি। গেমিং পিসির পারফরম্যান্স বাড়ানোর রেজিস্ট্রি হ্যাক হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে ই-স্পোর্টস প্লেয়ারদের কাছে খুবই গোপনীয় এবং ট্রাস্টেড একটি সেটিং। এতগুলো পরিবর্তন তো এক এক করে করা হলো, কিন্তু এর আসল রেজাল্ট বা স্পিড আপনি কখন পিসিতে দেখতে পাবেন?

মজার ব্যাপার হলো, রেজিস্ট্রি এডিটরে আপনি যাই পরিবর্তন করুন না কেন, তা কিন্তু সাথে সাথেই আপনার পিসিতে অ্যাপ্লাই হয়ে যায় না। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তার কারেন্ট সেশন বা রানিং অবস্থায় পুরোনো ডেটাবেস নিয়েই ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এই নতুন কমান্ডগুলোকে সিস্টেমের রক্তে পুরোপুরি মিশিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের ছোট্ট কিন্তু ভীষণ কার্যকরী একটি কাজ করতে হবে। আপনি কি আন্দাজ করতে পারছেন সেই ম্যাজিক্যাল ফিনিশিং টাচ বা কাজটি আসলে কী হতে পারে?

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন! যেকোনো রেজিস্ট্রি হ্যাক বা অপ্টিমাইজেশন সাকসেসফুল করার জন্য পিসিকে একবার সম্পূর্ণভাবে রিস্টার্ট বা রিবুট করাটা একদম বাধ্যতামূলক একটি কাজ। এই রিস্টার্টের পরেই আপনার পিসি নতুন সেটিংসে প্রাণ ফিরে পাবে এবং আপনি ব্যবহারের সময় রকেটের মতো স্পিড ফিল করবেন। আমাদের মূল অপ্টিমাইজেশনের কাজগুলো তো প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু এরপরও কি পিসির স্পিড চিরকাল ধরে রাখার জন্য আর কিছু জানার বাকি আছে? চলুন তাহলে পরের ধাপে গিয়ে দেখে নিই...

রেজিস্ট্রি এডিট করার পর পিসি রিস্টার্টের গুরুত্ব

আপনি এতক্ষণ ধরে কম্পিউটারের মস্তিষ্কে ঢুকে বেশ কিছু জাদুকরী পরিবর্তন করেছেন, যা সত্যিই অসাধারণ এবং ভীষণ সাহসিকতার একটি কাজ। কিন্তু অনেকেই ভাবেন যে, সেভ বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথেই বুঝি পিসির গতি জাদুর মতো রাতারাতি বেড়ে যাবে বা কাজ শুরু হয়ে যাবে। আসলে সত্যিটা হলো, অপারেটিং সিস্টেম রানিং অবস্থায় কখনোই নতুন কমান্ডগুলো পুরোপুরি নিজের কোর সিস্টেমের ভেতর রিয়েল-টাইমে অ্যাপ্লাই করতে পারে না। তাহলে এই নতুন শক্তিকে পিসির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দেওয়ার আসল উপায়টি আসলে কী?

এই নতুন কমান্ডগুলোকে সিস্টেমের মেমোরিতে পাকাপাকিভাবে বসানোর জন্যই পিসিকে কাজ শেষে একবার সম্পূর্ণ রিস্টার্ট করা ১০০% বাধ্যতামূলক একটি কাজ। যখন আপনি পিসি রিস্টার্ট দেন, তখন উইন্ডোজ তার পুরোনো ক্যাশ ডেটাবেস মুছে ফেলে নতুন সেটিং নিয়ে একদম ফ্রেশভাবে বুট হতে শুরু করে। এই রিস্টার্টের পরই মূলত আমাদের করা উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট গুলো তার আসল ম্যাজিক দেখানো শুরু করে দেয়। আপনি কি জানেন প্রথমবার রিস্টার্ট নেওয়ার সময় পিসির ভেতরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটে থাকে?

রিস্টার্ট হওয়ার সময় উইন্ডোজ আপনার দেওয়া শূন্য ডিলে টাইম এবং বন্ধ করে দেওয়া এনিমেশনগুলোর নতুন নির্দেশিকা একদম প্রথম থেকে পড়ে নেয়। এরপর যখন স্ক্রিন চালু হয়, তখন আপনি মাউস নাড়ানোর সাথে সাথেই বুঝবেন যে আগের সেই বিরক্তিকর ল্যাগ আর সিস্টেমের কোথাও নেই। দুর্বল পিসি ফাস্ট করার কার্যকরী উপায় হিসেবে এই ছোট রিস্টার্ট প্রক্রিয়াটি পুরো কাজের চমৎকার ফিনিশিং টাচ হিসেবে কাজ করে থাকে। কিন্তু যদি দেখেন রিস্টার্টের পরও আশানুরূপ স্পিড পাচ্ছেন না, তখন আপনার কী করণীয় হতে পারে?

যদি এমনটা হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার সিস্টেমের হার্ডওয়্যার হয়তো ধুলোবালিতে জ্যাম হয়ে আছে অথবা উইন্ডোজে মারাত্মক কোনো ভাইরাস আক্রমণ করেছে। তখন রেজিস্ট্রি ছাড়াও আমাদের আরও কিছু বেসিক কিন্তু অত্যন্ত পাওয়ারফুল মেইনটেনেন্স ট্রিকস জানা থাকাটা একজন স্মার্ট ইউজার হিসেবে ভীষণ দরকার। কারণ শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফোকাস করলে তো পুরো সিস্টেমের ১০০% রেসপন্স এবং অপ্টিমাইজেশন নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। চলুন তাহলে পিসিকে আরও স্মুথ করতে সেই গোপন এবং জাদুকরী বোনাস টিপসগুলো একটু দ্রুত একনজরে দেখে আসি...

স্লো ল্যাপটপ সুপার ফাস্ট করার আরও কিছু বোনাস টিপস

শুধুমাত্র সফটওয়্যার লেভেলে অপ্টিমাইজ করলেই একটি কম্পিউটার তার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে না, হার্ডওয়্যারকেও এর সাথে সবসময় ফ্যামিলিয়ার করতে হয়। ধরুন আপনি আপনার ল্যাপটপে অনেকগুলো উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট অত্যন্ত সফলভাবে এবং নির্ভুলভাবে প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু আপনার ল্যাপটপের ভেতরে থাকা ফ্যানটি যদি ধুলায় আটকে থাকে, তবে হিট ইস্যুর কারণে ল্যাপটপ এমনিতেই নিজে থেকে স্লো হয়ে যাবে। এই ধরণের বিরক্তিকর থার্মাল থ্রটলিং থেকে আপনার শখের এবং দামি ডিভাইসটিকে আপনি কীভাবে রক্ষা করবেন?

এর জন্য প্রতি ৬ মাস অন্তর ল্যাপটপের পেছনের কভার খুলে ফ্যান এবং হিটসিঙ্ক খুব সাবধানে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করাটা ভীষণ জরুরি। এছাড়াও পিসিতে থাকা উইন্ডোজ ডিফেন্ডার বা ভালো কোনো প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার ফুল সিস্টেম স্ক্যান করে নিতে হবে। এই ছোট কাজগুলো স্লো ল্যাপটপ সুপার ফাস্ট করার ম্যাজিক ট্রিক হিসেবে যেকোনো দামি অপ্টিমাইজার সফটওয়্যারের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্যকরী। তবে ল্যাপটপের স্টোরেজ ফুল হয়ে গেলে কি সিস্টেমের স্পিডে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা কি জানেন?

যখন আপনার সি-ড্রাইভ (C: Drive) প্রায় ফুল হয়ে যায়, তখন উইন্ডোজ ঠিকমতো ব্যাকগ্রাউন্ডের টেম্পোরারি ফাইলগুলো সেভ করার কোনো পর্যাপ্ত জায়গা পায় না। এর ফলে পুরো অপারেটিং সিস্টেমটি যেন শ্বাস নিতে না পেরে কচ্ছপের মতো মারাত্মক ধীরগতির আচরণ করা সবার সামনেই শুরু করে দেয়। তাই সি-ড্রাইভে সবসময় অন্তত ২০-৩০ জিবি জায়গা একেবারে ফ্রি বা ফাঁকা রাখার চেষ্টা করবেন, যা সিস্টেমকে সবসময় রিফ্রেশ এবং স্মুথ রাখবে। কিন্তু আপনি কি জানেন উইন্ডোজের ক্যাশ ফাইলগুলো কীভাবে এক ক্লিকেই মুছে ফেলে স্টোরেজ ফাঁকা করা যায়?

কীবোর্ড থেকে Windows + R চেপে রান বক্সে %temp% লিখে এন্টার দিন এবং সেখানে থাকা সব হিডেন ফাইল নির্দ্বিধায় ডিলিট করে ফেলুন। এরপর আবার রানে গিয়ে prefetch লিখে এন্টার দিয়ে সেখানকার সব অদরকারি ক্যাশ জঞ্জালগুলোও কিবোর্ডের ডিলিট বাটন চেপে পারমানেন্টলি মুছে ফেলুন। উইন্ডোজ অপ্টিমাইজেশন রেজিস্ট্রি এডিটর টিউটোরিয়াল এর পাশাপাশি এই কাজগুলো আপনার পিসিকে সবসময় সতেজ এবং সুপার ভাইব্রেন্ট রাখতে সাহায্য করবে। তবে অনেকেই স্পিড বাড়ানোর লোভে থার্ড-পার্টি সফটওয়্যারের জাদুকরী ফাঁদে পা দেন, সেগুলোর আসল সত্যিটা কী জানেন?

ইন্টারনেটে খুঁজলেই পিসি ক্লিন বা ফাস্ট করার শত শত ফ্রি সফটওয়্যারের লোভনীয় সব রংচঙে বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। না বুঝে অনেকেই এই সফটওয়্যারগুলো পিসিতে ইন্সটল করে নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতি করে বসেন, যা ঠিক করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমরা তো পিসি ফাস্ট করার ১০০% অর্গানিক উপায় শিখছি, তাই এক্সটার্নাল জিনিসের ওপর নির্ভরতা কমানোই আমাদের মূল টার্গেট হওয়া উচিত। চলুন এবার সেই থার্ড-পার্টি সফটওয়্যারগুলোর আসল মুখোশ উন্মোচন করে জেনে নিই এরা আপনার পিসির কী ক্ষতি করছে...

সাধারণ মানুষের ভুল: থার্ড-পার্টি রেজিস্ট্রি ক্লিনার কি আসলেই দরকার?

আপনি নিশ্চয়ই CCleaner বা এই জাতীয় অনেক রেজিস্ট্রি ক্লিনার সফটওয়্যারের নাম শুনেছেন, যেগুলো এক ক্লিকে পিসি রকেটের মতো ফাস্ট করার গ্যারান্টি দেয়। সত্যি বলতে, এই সফটওয়্যারগুলো উপকারের চেয়ে আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষতিই অনেক বেশি করে থাকে, যা সাধারণ ইউজাররা শুরুতে বুঝতে পারেন না। আমরা কষ্ট করে যে উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট ম্যানুয়ালি শিখলাম, এগুলো চাইলে এক ক্লিকেই সব চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে। আপনি কি জানেন এই তথাকথিত ক্লিনারগুলো কীভাবে আপনার পিসির কোর সিস্টেমকে ভেতর থেকে একটু একটু করে ধ্বংস করে দিচ্ছে?

উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট

এই ফ্রি ক্লিনার সফটওয়্যারগুলো মূলত না বুঝেই আপনার পিসির অনেক দরকারি ব্যাকগ্রাউন্ড ফাইলকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে পারমানেন্টলি সিস্টেম থেকে ডিলিট করে দেয়। ফলে অনেক সময় উইন্ডোজ আপডেট হঠাৎ করে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, অথবা আপনার খুব দরকারি কোনো কাজের সফটওয়্যার আর স্ক্রিনে ওপেনই হতে চায় না। মাইক্রোসফট নিজেই অফিশিয়ালি তাদের সাপোর্ট পেজে এই ধরণের থার্ড-পার্টি ক্লিনার সফটওয়্যারগুলো পিসিতে ব্যবহার করতে সাধারণ ইউজারদের সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করেছে। তাহলে পিসি পারফেক্টলি ক্লিন করার জন্য এই ক্ষতিকর সফটওয়্যারগুলোর বিকল্প এবং ১০০% নিরাপদ উপায় আসলে আমাদের হাতে কী রয়েছে?

আসল সত্য হলো, উইন্ডোজ ১০ এবং ১১ তে "Storage Sense" নামের একটি অসাধারণ ডিফল্ট টুল মাইক্রোসফট আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে যা অটোমেটিক পিসি ক্লিন রাখে। তাই বাইরের কোনো জঞ্জাল সফটওয়্যার ইন্সটল করে সিস্টেমের প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করার কোনো লজিক্যাল বা যৌক্তিক কারণই থাকতে পারে না। ল্যাগ ফ্রি উইন্ডোজ ১০/১১ সেটিং উপভোগ করতে চাইলে উইন্ডোজের নিজস্ব টুলসের ওপর ভরসা রাখাটাই সবসময় এক্সপার্টদের কাছে সবচেয়ে সেফ অপশন। কিন্তু যদি কখনো ম্যানুয়ালি কাজ করতে গিয়ে কোনো বড় ভুল আপনার হয়েই যায়, তখন আপনি কীভাবে সিস্টেমকে ক্র্যাশ থেকে রক্ষা করবেন?

কখন আগের সেটিংসে ফিরে যাবেন? (রিস্টোর গাইড)

মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, আর রেজিস্ট্রি এডিটরের মতো একটি অতি সেনসিটিভ জায়গায় কাজ করতে গিয়ে কমান্ডে ভুল হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার। ধরুন, আপনি পিসির স্পিড বাড়াতে গিয়ে ভুলবশত এমন একটি সিস্টেম ফাইল ডিলিট করে ফেলেছেন, যার কারণে আপনার পিসির ওয়াইফাই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ঠিক এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের জন্যই আমরা টিউটোরিয়ালের একেবারে শুরুতে একটি শক্তিশালী লাইফ জ্যাকেট বা ব্যাকআপ ফাইল তৈরি করে সেভ করে রেখেছিলাম। আপনি কি জানেন সেই সেভ করে রাখা .reg ফাইলটি দিয়ে কীভাবে মাত্র এক ক্লিকে পিসির সবকিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক করে ফেলা যায়?

পিসিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে মোটেও চিন্তিত না হয়ে প্রথমেই আপনার সেফ ড্রাইভে সেভ করে রাখা সেই ব্যাকআপ ফাইলটি একটু দ্রুত খুঁজে বের করুন। ফাইলটির ওপর রাইট ক্লিক করে "Merge" অপশনটি সিলেক্ট করুন এবং স্ক্রিনে ওয়ার্নিং আসলে একদম বিনা দ্বিধায় 'Yes' বাটনে ক্লিক করে কনফার্ম করে দিন। এই ছোট কাজটি করার সাথে সাথেই সিস্টেম আপনার করা সকল ভুল উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট অটোমেটিক মুছে ফেলবে। এর মাধ্যমে পিসি আবার তার একদম ফ্রেশ এবং আগের নিরাপদ অবস্থায় ফিরে যাবে, কিন্তু এর ঠিক পরপরই আপনার করণীয় কাজ কী হওয়া উচিত?

আরো পড়ুনঃ ক্লায়েন্ট স্ক্রিনশট চায় এমন ফ্রিল্যান্স কাজ

সাকসেসফুলি মার্জ হওয়ার পর পিসিকে অবশ্যই একবার ম্যানুয়ালি রিস্টার্ট দিতে একেবারেই ভুলবেন না, যাতে পুরোনো ডেটাবেস আবার পারফেক্টলি লোড হতে পারে। উইন্ডোজ ১০/১১ ল্যাগ কমানোর সহজ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে গিয়ে যেকোনো বড় রিস্ক বা সিস্টেম ফেইলিওর থেকে বাঁচতে এই রিস্টোর অপশনটি আপনার পরম বন্ধু। তাই নতুন কোনো ভ্যালু এডিট করার আগে সবসময় মনে করে এই ব্যাকআপ প্রসেসটি নিয়মিত রিপিট করাটা একজন দক্ষ এক্সপার্টের প্রধান লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আপনার পিসি তো এখন সব ধরনের বিপদ থেকে ১০০% সুরক্ষিত, কিন্তু এই পুরো প্রসেস শেষে আমাদের চূড়ান্ত প্রাপ্তি আসলে কী দাঁড়ালো?

আপনি এখন শুধু একজন সাধারণ কম্পিউটার ইউজার নন, বরং সিস্টেমের একেবারে ভেতরে ঢুকে কাজ করার মতো সাহসী একজন স্মার্ট টেক ইনথুজিয়াস্ট। এই সিক্রেট জ্ঞানটি কাজে লাগিয়ে আপনি চাইলে এখন আপনার বন্ধুদের স্লো পিসিগুলোকেও জাদুর মতো ফাস্ট করে দিয়ে তাদের রীতিমতো অবাক করে দিতে পারেন। উইন্ডোজ সুপার ফাস্ট করার ট্রিকস গুলো শুধু জানলেই হয় না, সেগুলোকে নিয়মিত প্র্যাকটিস করে পুরো সিস্টেমকে নিজের আয়ত্তে বা কন্ট্রোলে রাখতে হয়। চলুন, আজকের এই বিশাল এবং জাদুকরী টেক যাত্রার একটি সুন্দর সমাপ্তি টানা যাক এবং নিজেদের এতক্ষণের সাফল্যের একটি ছোট্ট মূল্যায়ন করি...

আপনার পিসি কি এখন রকেটের মতো ফাস্ট?

দীর্ঘ এই যাত্রায় আমরা উইন্ডোজের এমন সব গোপন রহস্য উন্মোচন করেছি, যা সাধারণ ইউজারদের কাছে এখনো একেবারেই অজানা এবং অধরা রয়ে গেছে। আমি আমার ব্লগিং এবং এসইওর ভারী কাজগুলো স্মুথভাবে করার জন্য এই উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট গুলো প্রতিনিয়ত ব্যবহার করি। হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের পেছনে অহেতুক টাকা নষ্ট না করে, এই ফ্রি এবং পাওয়ারফুল অপ্টিমাইজেশনগুলো ট্রাই করাটা আমার মতে সবচেয়ে বেশি লজিক্যাল কাজ। কিন্তু একজন এক্সপার্ট হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার একদম স্পেসিফিক এবং ব্যক্তিগত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এই মুহূর্তে ঠিক কী হতে পারে?

আমার আন্তরিক পরামর্শ হলো, ইন্টারনেটে দেখা যেকোনো র‍্যান্ডম কমান্ড না বুঝে কখনোই আপনার পিসির রেজিস্ট্রি এডিটরে হুট করে প্রয়োগ করতে যাবেন না। কারণ উইন্ডোজের এই কোর জায়গাটি খুবই স্পর্শকাতর, যেখানে একটি ছোট টাইপিং ভুল আপনার এত শখের পিসিটিকে সম্পূর্ণভাবে ডেড করে দিতে পারে। শুধুমাত্র বিশ্বস্ত সোর্স এবং পরীক্ষিত কমান্ডগুলোই সবসময় ব্যবহার করবেন, যেমনটা আমরা আজকের এই ডিটেইলস আর্টিকেলে খুব সতর্কতার সাথে আপনাদের দেখিয়েছি। আপনি কি জানেন এই সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনার কম্পিউটার কত বছর পর্যন্ত আপনাকে একদম নিরবচ্ছিন্ন এবং স্মুথ সার্ভিস দিতে পারবে?

সঠিক যত্ন এবং নিয়মতান্ত্রিক সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে একটি সাধারণ কনফিগারেশনের পিসিও অনায়াসে ৫ থেকে ৭ বছর আপনাকে দুর্দান্ত সার্ভিস দিতে পারে। আশা করছি আজকের এই এক্সক্লুসিভ টিউটোরিয়ালটি আপনার স্লো পিসির হতাশা দূর করে আপনাকে কাজের প্রতি আরও অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ এবং আগ্রহী করে তুলবে। আর্টিকেলের কোনো ধাপে বুঝতে সমস্যা হলে বা নতুন কোনো ভ্যালু সম্পর্কে ডিটেইলস জানতে চাইলে অবশ্যই নির্দ্বিধায় নিচে কমেন্ট বক্সে আপনার প্রশ্নটি জানাবেন। আমি নিজে আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট পড়বো এবং দ্রুত রিপ্লাই দিয়ে আপনাদের সমস্যাগুলো খুব সহজে সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, কথা দিচ্ছি।

টেকনোলজির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার কোনো বিকল্প নেই, তাই নতুন সব ট্রিকস শিখতে সবসময় আগ্রহী এবং ফোকাসড থাকুন। আপনাদের পিসির গতি রকেটের মতো ফাস্ট হোক এবং প্রতিদিনের কাজগুলো যেন আরও সহজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, সেই শুভকামনাই মন থেকে রইলো। পরবর্তীতে এমন আরও চমৎকার ও কার্যকরী এসইও ফ্রেন্ডলি টিপস নিয়ে হাজির হবো, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের এবং নিজের প্রিয় পিসির খুব যত্ন নিন। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি, দেখা হবে সামনের কোনো রোমাঞ্চকর এবং হিডেন টেকনোলজির দারুণ সব জাদুকরী সমাধান নিয়ে!

লেখকের শেষ বক্তব্য

দীর্ঘ সময় ও ধৈর্য নিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে মন থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একজন স্টুডেন্ট বা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিদিনের টানা কাজের মাঝে পিসি স্লো হয়ে গেলে মেজাজ কতটা খারাপ হয়, তা আমি নিজে খুব ভালো করেই জানি। মূলত সেই ব্যক্তিগত স্ট্রাগল এবং অভিজ্ঞতা থেকেই আজকের এই উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট নিয়ে এত বিস্তারিত গাইডলাইন শেয়ার করা। আপনারা যারা রেগুলার ভারী সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেন, তারা কি জানেন এই ছোট ছোট ট্রিকসগুলো আপনাদের কত মূল্যবান সময় প্রতিদিন বাঁচিয়ে দিচ্ছে?

আমার সবসময় একটাই লক্ষ্য থাকে, আর তা হলো 'প্রাইম ইন সাইট' (Prime In Site) ব্লগের মাধ্যমে আপনাদের জন্য সবচেয়ে রিয়েল এবং ১০০% কার্যকরী টেক সল্যুশনগুলো সহজ বাংলায় তুলে ধরা। আমি নিজে যখন টেক দুনিয়ায় কাজ শুরু করেছিলাম, তখন দুর্বল পিসি ফাস্ট করার কার্যকরী উপায় খুঁজতে গিয়ে ইন্টারনেটে প্রচুর ভুয়া গাইডের শিকার হয়েছিলাম। তাই আমি চাই না আপনারা বা আমার ব্লগ কমিউনিটির কোনো মেম্বার সেই একই ঝামেলার ভেতর দিয়ে গিয়ে নিজেদের শখের পিসির ক্ষতি করুন। আপনাদের যেকোনো টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধানে আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি, কিন্তু এরপর আপনাদেরও কি একটি ছোট দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়?

আপনাদের সাপোর্ট, ভালোবাসা এবং পজিটিভ ফিডব্যাকই আমাকে আরও নতুন নতুন উইন্ডোজ সুপার ফাস্ট করার ট্রিকস নিয়ে লিখতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করে। আজকের এই গাইডটি ম্যানুয়ালি ফলো করে আপনার পিসির স্পিডে ঠিক কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা কিন্তু অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে আমাকে জানাবেন। আপনাদের সফলতার ছোট ছোট গল্পগুলো পড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে, যা আমার এই দীর্ঘ লেখার সব ক্লান্তি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়। আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা যে বন্ধুটির পিসি সবসময় হ্যাং করে কাজের বারোটা বাজায়, তাকে কি আজকের এই জাদুকরী আর্টিকেলটি শেয়ার করে একটু চমকে দেবেন না?

টেকনোলজির এই বিশাল দুনিয়ায় আসলে নতুন কিছু শেখার কোনো শেষ নেই, আর আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি সেই অজানা বিষয়গুলো আপনাদের সামনে একদম সহজভাবে নিয়ে আসার। আপাতত আজকের মতো এই টেক আড্ডার এখানেই সমাপ্তি টানছি, তবে খুব শিগগিরই হাজির হবো নতুন কোনো ধামাকা ট্রিকস ও টিপস নিয়ে। তত দিন পর্যন্ত নিজের প্রিয় পিসিটিকে ল্যাগ-ফ্রি রাখুন এবং নির্ঝঞ্ঝাটভাবে নিজেদের সব প্রোডাক্টিভ কাজগুলো হাসি মুখে চালিয়ে যান। পরবর্তী ব্লগে আমরা পিসির ইন্টারনাল স্পিডের আরও একটি হিডেন সিক্রেট নিয়ে আলোচনা করবো, আপনারা কি সেই রহস্য উন্মোচনের জন্য এখন থেকেই তৈরি আছেন?

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

PRIME IN SITE নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। স্প্যাম বা আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেলা হতে পারে।

comment url