পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয়
আপনি কি জানেন আপনার ঘরে থাকা ওই পুরোনো ও স্লো কম্পিউটারটি জাদুর মতো ফাস্ট করে আপনি মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন? বেশিরভাগ মানুষই মনে করে ফ্রিল্যান্সিং মানেই শুধু গ্রাফিক্স বা ওয়েব ডিজাইন, অথচ উইন্ডোজের সামান্য কিছু গোপন সেটিংস পরিবর্তন করে যে এক বিশাল আয়ের রাস্তা খোলা যায় তা কি আপনি জানেন? আপনার সেই ধুলো জমা স্লো পিসিটিকে একটি শক্তিশালী রকেটে পরিণত করে কীভাবে আপনি আজ থেকেই নিজের ভাগ্য বদলাবেন তা কি জানতে চান?

পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার এই সম্পূর্ণ গোপন ট্রিকসটি জানলে আপনি ক্লায়েন্টদের স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করে দিয়ে বিশাল ডলার চার্জ করতে পারবেন। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে উইন্ডোজের গভীরে লুকিয়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো পরিষ্কার করার এই জাদুকরী স্কিলটি আপনাকে রাতারাতি একজন টেক এক্সপার্টে পরিণত করবে। চলুন আজ সেই জাদুকরী মাস্টারপ্ল্যানটি শিখে নিই যা আপনার সাধারণ কম্পিউটার জ্ঞানকে এক শক্তিশালী আয়ের উৎসে পরিণত করবে, আপনি কি এই রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য প্রস্তুত?
পেজ সূচিপএঃ পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয়
- স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করার এই গোপন জগতটি আসলে কী?
- পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় কীভাবে সম্ভব?
- উইন্ডোজ স্পিড আপ করে ক্লায়েন্টদের থেকে কীভাবে ডলার পাবেন?
- রেজিস্ট্রি এডিটরের ভয়ংকর জগতে প্রবেশের আগে কী কী জানবেন?
- আনওয়ান্টেড ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস বন্ধ করে পিসি রকেটের মতো ফাস্ট করুন
- টেম্পোরারি ফাইল এবং ক্যাশ ক্লিয়ার করার জাদুকরী মাস্টার ট্রিকস
- স্টার্টআপ প্রোগ্রাম ডিজেবল করে ল্যাপটপ হ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান
- ভার্চুয়াল মেমরি বাড়িয়ে আপনার সাধারণ র্যামকে দ্বিগুণ শক্তিশালী করুন
- ক্লায়েন্টের কাজ পাওয়ার জন্য ফাইবার বা আপওয়ার্ক প্রোফাইল সেটআপ
- পিসি অপটিমাইজেশন সার্ভিস বিক্রির সময় যে ভুলগুলো একদমই করবেন না
- আপনার এই নতুন টেক স্কিলকে একটি আইটি এজেন্সিতে রূপান্তর
- আমার নিজের প্রথম ক্লায়েন্টের রোমাঞ্চকর গল্প
স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করার এই গোপন জগতটি আসলে কী?
আমরা যখন নতুন একটি কম্পিউটার কিনি তখন সেটি একদম মাখনের মতো চলে, কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই তা কচ্ছপের মতো স্লো হয়ে যায়। এই বিরক্তিকর সমস্যাটি আমাদের কাজের গতি নষ্ট করে দেয় এবং অনেকেই রাগের মাথায় দামি পার্টস পরিবর্তন করে ফেলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন কোনো হার্ডওয়্যার পরিবর্তন না করেই শুধু ভেতরের কিছু সেটিংস ঠিক করে এই সমস্যার জাদুকরী সমাধান করা সম্ভব?
কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায় হিসেবে আমরা সাধারণত কিছু বেসিক কাজ করি, কিন্তু এর গভীরে লুকিয়ে থাকা কোর সিস্টেম ফাইলগুলোর খবর রাখি না। উইন্ডোজের ভেতরে এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং ক্যাশ মেমরি দিনের পর দিন জমতে থাকে যা আপনার প্রসেসরকে নীরবে গলা টিপে মারে। এই লুকানো আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করে আপনার পিসিকে আবার নতুন দিনের মতো রকেটের গতিতে ফিরিয়ে আনার সেই গোপন সূত্রটি আসলে কী?
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় পিসি অপটিমাইজেশন, যা শেখার জন্য আপনাকে কোনো বিশাল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার একদমই দরকার নেই। ইন্টারনেটের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা কিছু ছোট ট্রিকস কাজে লাগিয়ে আপনি এই বিশাল টেকনিক্যাল জগতটিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবেন। সাধারণ একটি স্লো পিসিকে ম্যাজিকের মতো ফাস্ট করে দেওয়ার এই জাদুকরী স্কিলটি শিখতে আপনার প্রতিদিন ঠিক কতটুকু সময় দেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্কিলটি শুধু আপনার নিজের পিসির জন্যই নয়, বরং এটি আপনার জন্য এক বিশাল আয়ের দরজা খুলে দিতে পারে। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ তাদের স্লো কম্পিউটার নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছে এবং এই সমস্যার সমাধানের জন্য তারা যেকোনো পরিমাণ টাকা দিতে প্রস্তুত। সাধারণ এই টেকনিক্যাল জ্ঞানটি ব্যবহার করে আপনি কীভাবে ঘরে বসেই হাজার হাজার ডলার ইনকামের একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলবেন তা কি আপনি জানতে চান?
পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় কীভাবে সম্ভব?
অনেকেই ভাবেন ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে কোডিং, গ্রাফিক্স বা বিশাল কোনো টেকনিক্যাল বিষয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু আপনার যদি শুধুমাত্র উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরের সাধারণ কিছু সেটিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকে, তবে আপনিও এই মার্কেটে রাজত্ব করতে পারবেন। পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার এই অভাবনীয় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন কত মানুষ তাদের ক্যারিয়ার বদলে ফেলছে তা কি আপনি জানেন?
আমেরিকা বা ইউরোপের মানুষজন তাদের স্লো হয়ে যাওয়া কম্পিউটার ঠিক করার জন্য লোকাল দোকানে গেলে তাদের বিশাল অংকের সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। তারা সেই খরচ বাঁচানোর জন্য অনলাইনে এমন এক্সপার্ট খোঁজে যারা রিমোটলি বা ঘরে বসেই তাদের পিসির স্পিড বাড়িয়ে দিতে পারবে। এই বিশাল এবং আনট্যাপড মার্কেটে প্রবেশ করে আপনি কীভাবে ওই বিদেশি ক্লায়েন্টদের চোখের মণি হয়ে উঠবেন তা কি আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন?
আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ পিসি ফাস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিছু রেজিস্ট্রি এডিট
এই কাজগুলো করার জন্য আপনাকে ক্লায়েন্টের বাসায় যেতে হবে না, বরং এনিডেস্ক বা টিমভিউয়ার এর মতো রিমোট ডেস্কটপ সফটওয়্যার ব্যবহার করলেই চলবে। আপনি নিজের ঘরে বসে এক ক্লিকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার সব সমস্যা ম্যাজিকের মতো সমাধান করে দিতে পারবেন। আপনার নিজের চেয়ার থেকে না উঠে অন্য দেশের একটি পিসি ফাস্ট করে দেওয়ার এই রোমাঞ্চকর অনুভূতিটি আপনার জীবনে ঠিক কতটা আত্মবিশ্বাস এনে দেবে?
বিশেষ করে যারা গেমিং করে বা ভারী সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করে, তাদের পিসির স্পিড সামান্য একটু কমে গেলেই তারা চরম বিরক্ত হয়ে যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য পিসি সেটআপ এবং গেমারদের জন্য পিসি অপটিমাইজেশন এখন আপওয়ার্ক বা ফাইবারের মতো মার্কেটপ্লেসে অত্যন্ত ডিমান্ডিং একটি কাজ। এই গেমার বা প্রফেশনাল ক্লায়েন্টদের টার্গেট করে আপনি কীভাবে আপনার এই সাধারণ স্কিলটিকে একটি প্রিমিয়াম সার্ভিসে রূপান্তর করবেন তা কি বুঝতে পারছেন?
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, একটি পিসি অপটিমাইজ করতে আপনার সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট সময় লাগবে, যার জন্য আপনি পনেরো থেকে পঞ্চাশ ডলার পর্যন্ত অনায়াসে চার্জ করতে পারেন। দিনে মাত্র দুটি কাজ কমপ্লিট করলেই মাসের শেষে আপনার ইনকাম এমন এক জাদুকরী অংকে গিয়ে দাঁড়াবে যা আপনি সাধারণ কোনো চাকরিতেও পাবেন না। এই জাদুকরী স্কিলটি বিক্রি করে সরাসরি ডলার ইনকাম শুরু করার সেই নিখুঁত এবং প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইনটি আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন?
উইন্ডোজ স্পিড আপ করে ক্লায়েন্টদের থেকে কীভাবে ডলার পাবেন?
আপনার কাছে স্কিল আছে, কিন্তু ক্লায়েন্ট যদি না জানে যে আপনি এই কাজে একজন মাস্টার, তবে আপনার ওই স্কিলের কোনো কানাকড়িও দাম নেই। সবার আগে আপনাকে ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো প্ল্যাটফর্মে একটি অত্যন্ত প্রফেশনাল এবং আকর্ষণীয় গিগ বা সার্ভিস প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। আপনার এই গিগ বা প্রোফাইলটি দেখে একজন বিদেশি ক্লায়েন্ট কেন অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে ঠিক আপনাকেই কাজ দেবে তা কি আপনি জানেন?
গিগের ডেসক্রিপশনে আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে যে আপনি শুধু সাধারণ ক্লিনিং নয়, বরং একদম কোর লেভেলের অপটিমাইজেশন সার্ভিস প্রদান করেন। উইন্ডোজ ১০ স্পিড আপ টিপস এবং রিমোট সাপোর্টের কথা উল্লেখ করে সুন্দর একটি প্যাকেজ তৈরি করলে ক্লায়েন্টরা আপনাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করবে। এই সার্ভিসগুলো সাজিয়ে একটি প্রিমিয়াম প্যাকেজ তৈরি করার পর ক্লায়েন্টকে প্রথম মেসেজেই কীভাবে আপনি জাদুর মতো ইমপ্রেস করে ফেলবেন তা কি ভেবেছেন?
ক্লায়েন্ট যখন মেসেজ দেবে, তখন তাকে তার পিসির বর্তমান কনফিগারেশন এবং সমস্যার কথা খুব সুন্দর ও প্রফেশনাল ভাষায় জিজ্ঞেস করুন। এরপর টিমভিউয়ার দিয়ে তার পিসিতে ঢুকে কাজ শুরু করার আগে তাকে আশ্বস্ত করুন যে তার কোনো পার্সোনাল ডাটা বিন্দুমাত্রও নষ্ট হবে না। আপনার এই ছোট ছোট প্রফেশনাল আচরণগুলো কীভাবে একজন অপরিচিত ক্লায়েন্টের মনে আপনার প্রতি এক বিশাল আস্থার পাহাড় তৈরি করবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
কাজ শেষ হওয়ার পর ক্লায়েন্টকে পিসি রিস্টার্ট দিয়ে স্পিড চেক করতে বলুন এবং তাকে কিছু ফ্রি টিপস দিয়ে চমকে দিন। এই বাড়তি সার্ভিসটুকু তাকে এতটাই মুগ্ধ করবে যে সে শুধু আপনাকে ফাইভ স্টার রিভিউই দেবে না, বরং তার বন্ধুদের কাছেও আপনার প্রশংসা করবে। একটি মাত্র ভালো রিভিউ দিয়ে কীভাবে আপনি আপনার ফাইভার প্রোফাইলটিকে রকেটের মতো র্যাংক করিয়ে হাজারো অর্ডারের বন্যা বয়ে আনবেন তা কি আপনি শিখতে চান?
রেজিস্ট্রি এডিটরের ভয়ংকর জগতে প্রবেশের আগে কী কী জানবেন?
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের একদম কেন্দ্রবিন্দু বা হার্ট হলো এই রেজিস্ট্রি, যেখানে পিসির প্রতিটি সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য জমা থাকে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, অনেক এক্সপার্টরাও এই জায়গায় হাত দিতে ভয় পায় কারণ সামান্য একটু ভুল হলে পুরো উইন্ডোজটি ক্র্যাশ করতে পারে। উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি এডিট করার এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ জগতে পা রাখার আগে আপনার ঠিক কোন জাদুকরী বর্মটি গায়ে জড়ানো শতভাগ বাধ্যতামূলক তা কি আপনি জানেন?
আপনি যখন পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার স্বপ্ন দেখছেন, তখন আপনাকে এই রেজিস্ট্রি সম্পর্কে একদম এ টু জেড মাস্টার হতে হবে। এখানে হাজার হাজার ভ্যালু এবং কি থাকে, যার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ভ্যালু পরিবর্তন করলেই পিসির স্পিড একদম জাদুর মতো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু ক্লায়েন্টের পিসিতে ঢুকে এই ভ্যালুগুলো পরিবর্তন করার সময় যদি ভুল করে অন্য কোনো ফাইল ডিলিট হয়ে যায়, তখন আপনি কী করবেন?
এই ভয়ংকর বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো কাজ শুরু করার আগে পুরো সিস্টেমের একটি ব্যাকআপ তৈরি করা। রেজিস্ট্রি এডিটর ওপেন করে ফাইলে গিয়ে এক্সপোর্ট অপশনে ক্লিক করলেই পুরো রেজিস্ট্রির একটি নিখুঁত ব্যাকআপ ফাইল সেভ হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। ক্লায়েন্টের পিসিতে এই ছোট ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাসটি কীভাবে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে যেকোনো বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
ব্যাকআপ নেওয়ার পাশাপাশি কন্ট্রোল প্যানেল থেকে একটি সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট ক্রিয়েট করাটাও একজন প্রফেশনাল পিসি অপটিমাইজারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। এর ফলে যদি আপনার কোনো ভুলের কারণে ক্লায়েন্টের পিসি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে আপনি এক ক্লিকেই পিসিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এই চরম সতর্কতাগুলো মেনে চলার পর আপনি যখন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্লায়েন্টের পিসির স্পিড বাড়ানোর কাজ শুরু করবেন, তখন আপনার কেমন লাগবে?
রেজিস্ট্রি এডিটরে গিয়ে মেনু শো ডিলে, মাউস হোভার টাইম বা উইন্ডোজ অ্যানিমেশন স্পিডের ভ্যালুগুলো কমিয়ে দিলে পিসি অত্যন্ত ফাস্ট রেসপন্স করতে শুরু করে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো চোখের পলকে কাজ করে এবং ক্লায়েন্ট সাথে সাথেই বুঝতে পারে যে তার পিসি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মুথ হয়েছে। আপনার করা এই জাদুকরী পরিবর্তনগুলো দেখে ক্লায়েন্ট যখন খুশিতে লাফিয়ে উঠবে, তখন আপনার সেই চরম তৃপ্তির অনুভূতিটি ঠিক কেমন হবে তা কি ভেবেছেন?
এই এডভান্সড লেভেলের কাজের পর আপনাকে পিসির সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে যা পিসিকে সবচেয়ে বেশি স্লো করে। ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে চলতে থাকা ওই বিশাল দানবীয় সফটওয়্যারগুলোকে কীভাবে আপনি এক ক্লিকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন তা কি আপনি শিখতে প্রস্তুত?
আনওয়ান্টেড ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস বন্ধ করে পিসি রকেটের মতো ফাস্ট করুন
আমরা যখন পিসি চালু করি, তখন আমাদের চোখের আড়ালে এমন অনেক অ্যাপ্লিকেশান নিজে থেকেই চালু হয়ে যায় যার কোনো দরকারই আমাদের নেই। এই ছদ্মবেশী অ্যাপগুলো আপনার প্রসেসর এবং র্যামের এক বিশাল অংশ নীরবে দখল করে বসে থাকে এবং আপনার পিসিকে একদম কচ্ছপের মতো ধীরগতির বানিয়ে দেয়। স্লো পিসি ফাস্ট করার নিয়ম হিসেবে সবার আগে এই ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘাপটি মেরে বসে থাকা নীরব ঘাতকগুলোকে কীভাবে আপনি খুঁজে বের করবেন তা কি জানেন?
উইন্ডোজের টাস্ক ম্যানেজার হলো সেই জাদুকরী আয়না যা দিয়ে আপনি দেখতে পারবেন আপনার পিসির কোন অংশটি ঠিক কতটা ব্যবহার হচ্ছে। কিবোর্ড থেকে কন্ট্রোল, শিফট এবং এস্কেপ বোতাম একসাথে চাপলেই এই ম্যানেজারটি আপনার সামনে একদম জাদুর মতো খুলে যাবে। এখানে পারফরম্যান্স এবং প্রসেস ট্যাবে গিয়ে আপনি কীভাবে খুব সহজেই ওই র্যাম খেকো সফটওয়্যারগুলোকে হাতেনাতে ধরে ফেলবেন তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
.webp)
এই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোকে বন্ধ করার জন্য উইন্ডোজের সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি অপশন থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস মেনুতে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে একটি মাত্র টগল বাটন অফ করে দিলেই সবগুলো ফালতু অ্যাপ একসাথে চলা বন্ধ হয়ে যাবে এবং আপনার পিসি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। এই সামান্য একটি সেটিংস পরিবর্তন করার পর আপনার প্রসেসর কীভাবে ম্যাজিকের মতো রিল্যাক্স হয়ে যাবে তা কি আপনি নিজের চোখে দেখতে চান?
এই কাজটি করার সাথে সাথেই আপনি খেয়াল করবেন যে আপনার পিসির ফ্যান আগের চেয়ে অনেক শান্ত হয়ে গেছে এবং কোনো ল্যাগ ছাড়াই ফোল্ডারগুলো খুলছে। গেমার ক্লায়েন্টদের জন্য এই ট্রিকসটি হলো একদম ব্রহ্মাস্ত্র, কারণ এর ফলে গেম খেলার সময় তারা অনেক বেশি ফ্রেম রেট বা এফপিএস পায়। আপনার ক্লায়েন্ট যখন দেখবে যে তার শখের গেমটি আর আগের মতো আটকাচ্ছে না, তখন সে আপনাকে কত ডলার টিপস দিতে পারে তা কি ভেবে দেখেছেন?
পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার ক্ষেত্রে এই ছোট ছোট স্টেপগুলোই আপনাকে সাধারণ ফ্রিল্যান্সারদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়। ক্লায়েন্টের পিসির এই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসগুলো বন্ধ করে আপনি তো র্যাম বাঁচালেন, কিন্তু হার্ডডিস্কে জমে থাকা ওই পাহাড়সম আবর্জনাগুলো কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
টেম্পোরারি ফাইল এবং ক্যাশ ক্লিয়ার করার জাদুকরী মাস্টার ট্রিকস
কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা বা কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় সিস্টেম নিজের অজান্তেই প্রচুর টেম্পোরারি ফাইল সি ড্রাইভে জমা করে রাখে। দিনের পর দিন জমতে থাকা এই ফাইলগুলো একটা সময় আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ককে একদম শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ফেলে দেয় যা পিসির গতি মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। আপনি কি জানেন আপনার সি ড্রাইভে লুকিয়ে থাকা এই ফালতু আবর্জনাগুলো কীভাবে আপনার প্রসেসরের গতিকে নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে?
এই লুকানো আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করার জন্য কিবোর্ড থেকে উইন্ডোজ এবং আর বাটন একসাথে চেপে রান কমান্ড ওপেন করতে হবে। সেখানে টেম্প, পার্সেন্টেজ টেম্প এবং প্রিফেচ লিখে একে একে প্রতিটি ফোল্ডারের ভেতরে থাকা সব ফালতু ফাইল নির্দ্বিধায় ডিলিট করে দিন। এই ফাইলগুলো ডিলিট করলে পিসির কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এই ছোট কাজটি আপনার সাধারণ পিসিকে কীভাবে ম্যাজিকের মতো ফাস্ট করে দেয় তা কি আপনি জানেন?
আরো পড়ুনঃ Tenda ও TP-Link রাউটার ব্রিজিং করার নিয়ম
শুধু এই রান কমান্ডই নয়, উইন্ডোজের নিজস্ব ডিস্ক ক্লিনআপ টুল ব্যবহার করে আপনি সি ড্রাইভের আরও গভীরে থাকা পুরোনো উইন্ডোজ আপডেটের ফাইলগুলো মুছে ফেলতে পারেন। এই টুলটি স্ক্যান করার পর যখন আপনি দেখবেন যে অযথাই বিশ বা ত্রিশ জিবি জায়গা ফালতু ফাইল দখল করে আছে, তখন আপনি নিজেই চরম অবাক হবেন। সি ড্রাইভের এত বিশাল জায়গা এক ক্লিকে খালি করে দেওয়ার পর আপনার পিসি কীভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রকেটের মতো উড়তে শুরু করবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টকে এই বিশাল ফ্রি স্পেস দেখানোটা এক জাদুকরী সাইকোলজিক্যাল ট্রিকস হিসেবে কাজ করে। ক্লায়েন্ট যখন দেখে যে আপনি তার পিসির কোনো দরকারি ফাইল না কেটেই সি ড্রাইভের ত্রিশ জিবি জায়গা ম্যাজিকের মতো খালি করে দিয়েছেন, তখন সে খুশিতে দিশেহারা হয়ে যায়। আপনার এই ছোট্ট একটি জাদুকরী কাজের বিনিময়ে ক্লায়েন্ট খুশি হয়ে আপনাকে কত বড় অংকের টিপস দিতে পারে তা কি আপনি কল্পনা করতে পারেন?
স্টার্টআপ প্রোগ্রাম ডিজেবল করে ল্যাপটপ হ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান
পিসির পাওয়ার বাটন চাপার পর উইন্ডোজ লোড হতে যদি পাঁচ বা দশ মিনিট সময় লাগে, তবে তার চেয়ে বিরক্তিকর অনুভূতি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। আমাদের অনেকেই এই সমস্যাটিকে পিসির বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ধরে নিয়ে চরম হতাশায় ভোগেন এবং নতুন পিসি কেনার কথা ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই বিরক্তিকর সমস্যার পেছনে আসলে উইন্ডোজের নয়, বরং স্টার্টআপে বসে থাকা কিছু ঘাপটি মারা সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় হাত রয়েছে?
আপনি যখন পিসি চালু করেন, তখন উইন্ডোজের সাথে সাথে স্কাইপ, স্পটিফাই বা ইন্টারনেট ডাউনলোডের মতো ভারী সফটওয়্যারগুলো নিজে থেকেই চালু হওয়ার চেষ্টা করে। একসাথে এতগুলো দানবীয় সফটওয়্যার চালু হওয়ার চাপ আপনার সাধারণ প্রসেসর এবং হার্ডডিস্ক সামলাতে পারে না বলেই পিসি আটকে যায় বা হ্যাং করে। ল্যাপটপ হ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে সবার আগে আপনার এই অটোমেটিক চালু হওয়া সফটওয়্যারগুলোকে কীভাবে চরম শিক্ষা দিতে হবে তা কি আপনার জানা আছে?
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে টাস্ক ম্যানেজারের স্টার্টআপ ট্যাবে গিয়ে ওই অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলোর নামের ওপর রাইট ক্লিক করে ডিজেবল করে দিন। এর ফলে উইন্ডোজ যখন চালু হবে, তখন ওই সফটওয়্যারগুলো আর প্রসেসরের ঘাড়ে চেপে বসতে পারবে না এবং পিসি একদম মাখনের মতো ওপেন হবে। এই ছোট্ট একটি সেটিং পরিবর্তন করে আপনার ক্লায়েন্টের দশ মিনিটের বুট টাইমকে কীভাবে আপনি মাত্র দশ সেকেন্ডে নামিয়ে আনবেন তা কি ভেবে দেখেছেন?
তবে এই ডিজেবল করার সময় একটি চরম সতর্কতা মানতে হবে, কোনোভাবেই উইন্ডোজ ডিফেন্ডার বা অডিও ড্রাইভারের মতো দরকারি জিনিসগুলো বন্ধ করা যাবে না। ভুল করে অ্যান্টিভাইরাস বা সাউন্ড ড্রাইভার ডিজেবল করে দিলে ক্লায়েন্টের পিসিতে নতুন বিপদ ডেকে আনা হবে যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ছোট ছোট টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে একটু সতর্ক থেকে আপনি কীভাবে একজন রিয়েল আইটি এক্সপার্টের মতো নিজের সম্মান বাড়িয়ে নেবেন তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
স্লো পিসি ফাস্ট করার নিয়ম গুলোর মধ্যে এই স্টার্টআপ ক্লিনআপ হলো সবচেয়ে দ্রুত এবং চোখের সামনে প্রমাণ দেখানোর মতো একটি চমৎকার পদ্ধতি। ক্লায়েন্ট যখন পিসি রিস্টার্ট দিয়ে দেখবে যে তার পুরোনো পিসিটি নতুন কেনা পিসির চেয়েও দ্রুত চালু হচ্ছে, তখন তার চোখ একদম কপালে উঠে যাবে। আপনার হাতের জাদুতে ক্লায়েন্টের এই দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা মুহূর্তের মধ্যে দূর হওয়ার পর সে আপনাকে ঠিক কতটা সম্মান করবে তা কি আপনি জানেন?
স্টার্টআপ ক্লিনআপ তো হলো, কিন্তু যে ক্লায়েন্টের পিসিতে র্যাম অনেক কম এবং সে ভারী ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার চালাতে চায়, তখন আপনি কী জাদুকরী সমাধান দেবেন? নতুন র্যাম কিনে লাগানো ছাড়া শুধু সফটওয়্যারের মাধ্যমে তার পিসির মেমরি বাড়িয়ে দিয়ে তাকে চমকে দেওয়ার সেই সিক্রেট হ্যাকসটি কি আপনি শিখতে প্রস্তুত?
ভার্চুয়াল মেমরি বাড়িয়ে আপনার সাধারণ র্যামকে দ্বিগুণ শক্তিশালী করুন
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে আপনি এমন অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন যাদের পিসিতে মাত্র চার বা আট জিবি র্যাম আছে কিন্তু তারা অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রোর মতো ভারী সফটওয়্যার চালাতে চায়। ব্রাউজারে কয়েকটি ট্যাব খুললেই তাদের ওই কম র্যাম পুরো শতভাগ ভর্তি হয়ে যায় এবং পিসি হ্যাং করে একদম আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে ক্লায়েন্টকে নতুন র্যাম কেনার কথা না বলে আপনি কীভাবে সম্পূর্ণ ফ্রিতে উইন্ডোজের ভেতর থেকেই র্যামের ক্ষমতা দ্বিগুণ করে দেবেন তা কি জানেন?
এই অভাবনীয় ম্যাজিকটি করা হয় উইন্ডোজের ভার্চুয়াল মেমরি বা পেজিং ফাইল সেটিংটি ব্যবহার করে যা অনেকেই একদমই জানেন না। এটি আপনার এসএসডি বা হার্ডডিস্কের কিছু নির্দিষ্ট ফাঁকা জায়গাকে ধার করে সাময়িকভাবে র্যাম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। হার্ডডিস্ককে জাদুর মতো র্যাম বানিয়ে ফেলার এই গোপন পদ্ধতিটি পিসির ভারী সফটওয়্যারগুলোকে কীভাবে চরম স্বস্তি দেয় তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
এটি করার জন্য মাই কম্পিউটারের প্রপার্টিজ থেকে এডভান্সড সিস্টেম সেটিংসে গিয়ে পারফরম্যান্স মেনুর ভেতরে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ভার্চুয়াল মেমরি ট্যাবে গিয়ে অটোমেটিক অপশনটি তুলে দিয়ে কাস্টম সাইজ নির্বাচন করে আপনার পিসির বর্তমান র্যামের দেড় থেকে তিন গুণ ভ্যালু বসিয়ে দিতে হবে। এই জাদুকরী ভ্যালু বসানোর পর আপনার ক্লায়েন্টের সাধারণ পিসিটি কীভাবে একটি ওয়ার্কস্টেশনের মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে তা কি আপনি কল্পনা করতে পারেন?
কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায় হিসেবে এই ভার্চুয়াল মেমরি ট্রিকসটি গেমার বা ডিজাইনার ক্লায়েন্টদের জন্য একদম লাইফসেভার হিসেবে কাজ করে। পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার পথে এই ধরনের এডভান্সড টেকনিকগুলো আপনাকে সাধারণ মানের ফ্রিল্যান্সারদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে রাখবে। ক্লায়েন্ট যখন কোনো ল্যাগ ছাড়াই তার ভারী সফটওয়্যারগুলোতে মাখনের মতো কাজ করতে পারবে, তখন সে আপনার এই জাদুকরী স্কিলের কতটা প্রশংসা করবে তা কি ভেবেছেন?
পিসি অপটিমাইজেশনের প্রায় সব গোপন ব্রহ্মাস্ত্রই আপনার শেখা হয়ে গেছে, এখন সময় এসেছে এই স্কিলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি ক্লায়েন্ট হান্ট করার। কিন্তু মার্কেটপ্লেসে হাজারো ফ্রিল্যান্সারের ভিড়ে ক্লায়েন্টরা আপনাকে কেন খুঁজে বের করবে এবং কীভাবে আপনার একাউন্টে ডলারের বৃষ্টি নামবে তা কি আপনি জানেন?
ক্লায়েন্টের কাজ পাওয়ার জন্য ফাইবার বা আপওয়ার্ক প্রোফাইল সেটআপ
আপনার মাথায় যতই টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকুক না কেন, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটপ্লেসের নিয়ম না জানলে আপনার একাউন্টে এক ডলারও জমা হবে না। আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো বিশাল সাগরে মাছ ধরতে হলে আপনাকে একটি অত্যন্ত প্রফেশনাল এবং আকর্ষণীয় প্রোফাইল বা জাল তৈরি করে বসতে হবে। আপনার প্রোফাইলের সাধারণ একটি ডেসক্রিপশন কীভাবে ক্লায়েন্টের সাইকোলজির সাথে খেলে তাকে কাজ দিতে বাধ্য করবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
সবার আগে আপনার প্রোফাইলে নিজের একটি হাসিমুখের এবং প্রফেশনাল ছবি ব্যবহার করুন যা দেখে ক্লায়েন্টের মনে আপনার প্রতি চরম আস্থা তৈরি হয়। এরপর ডেসক্রিপশনে রোবোটিক ভাষায় কথা না লিখে খুব ইমোশনাল এবং আন্তরিকভাবে লিখুন যে আপনি তার পিসির স্লো হওয়ার কষ্টটা খুব ভালোভাবে বোঝেন। আপনার এই আন্তরিকতা এবং সমস্যার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ কীভাবে আপনাকে প্রথম দর্শনেই ক্লায়েন্টের প্রিয় মানুষ বানিয়ে ফেলবে তা কি আপনি জানেন?
গিগ বা সার্ভিস তৈরি করার সময় টাইটেলে খুব আকর্ষণীয় কিছু শব্দ ব্যবহার করুন যেমন আমি দশ মিনিটে আপনার ল্যাপটপের স্পিড রকেটের মতো বাড়িয়ে দেব। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য পিসি সেটআপ বা পিসি স্পিড আপ এর মতো হাই ডিমান্ডিং কিওয়ার্ডগুলো গিগের ডেসক্রিপশনে অত্যন্ত ন্যাচারালভাবে বসিয়ে দিন। আপনার এই এসইও অপটিমাইজড গিগটি যখন ক্লায়েন্টের সার্চ রেজাল্টে সবার প্রথমে ম্যাজিকের মতো ভেসে উঠবে, তখন আপনার কেমন লাগবে?
.webp)
নতুন হিসেবে প্রথম দিকে আপনাকে একটু কম প্রাইসে বা ডিসকাউন্টে প্যাকেজ তৈরি করতে হবে যাতে ক্লায়েন্টরা আপনার সার্ভিসটি ট্রাই করে দেখতে আগ্রহী হয়। আপনার মূল লক্ষ্য টাকা নয়, বরং প্রথম কয়েকটি ফাইভ স্টার রিভিউ আদায় করে নেওয়া যা আপনার প্রোফাইলকে রকেটের গতিতে বুস্ট করবে। এই রিভিউয়ের পাহাড় তৈরি করে কীভাবে আপনি খুব দ্রুত আপনার সার্ভিসের দাম দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে ফেলবেন তা কি আপনি ভেবে দেখেছেন?
কাজ শেষ করার পর ক্লায়েন্টকে খুশি করার জন্য তাকে আপনার কাজের একটি ছোট বিফোর এবং আফটার ভিডিও রেকর্ড করে উপহার দিতে পারেন। সে যখন নিজের চোখেই দেখবে যে কাজের আগে তার পিসি চালু হতে দশ মিনিট লাগত এবং এখন মাত্র আট সেকেন্ড লাগছে, তখন সে রীতিমতো অবাক হয়ে যাবে। আপনার এই ওভার-ডেলিভারি বা এক্সট্রা কেয়ার করার অভ্যাসটি কীভাবে ওই ক্লায়েন্টকে সারা জীবনের জন্য আপনার স্থায়ী কাস্টমারে পরিণত করবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
এছাড়া আপনি চাইলে ক্লায়েন্টকে বলতে পারেন যে পিসি অপটিমাইজেশন কোনো এককালীন কাজ নয়, এটি প্রতি মাসে একবার করে পরিষ্কার করতে হয়। তাকে মাসিক মেইনটেন্যান্স এর একটি প্যাকেজ অফার করে আপনি খুব সহজেই এককালীন ইনকামকে একটি প্যাসিভ আয়ের রাস্তায় পরিণত করতে পারেন। আপনার এই স্মার্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি কীভাবে আপনাকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের ডলার নিশ্চিতভাবে এনে দেবে তা কি আপনি জানেন?
মার্কেটপ্লেসে সফল হওয়ার এই সব নিয়ম তো আপনি জানলেন, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে কিছু ছোট ভুলে আপনার পুরো ক্যারিয়ার চরম ধসের মুখে পড়তে পারে। ক্লায়েন্টের পিসিতে কাজ করার সময় আপনার কোন ভয়ংকর বোকামিগুলোর কারণে ফাইবার বা আপওয়ার্ক আপনার একাউন্ট চিরতরে ব্যান করে দিতে পারে তা কি আপনি শিখতে চান?
পিসি অপটিমাইজেশন সার্ভিস বিক্রির সময় যে ভুলগুলো একদমই করবেন না
ফ্রিল্যান্সিং মানে শুধু ডলার আয় নয়, এটি হলো বিশ্বাস এবং আস্থার এক বিশাল ব্যবসা যেখানে ক্লায়েন্টের নিরাপত্তা আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অনেকেই পিসির স্পিড বাড়ানোর জন্য থার্ড পার্টির বিভিন্ন ক্রেক বা ম্যালওয়্যার যুক্ত ক্লিনার সফটওয়্যার ক্লায়েন্টের পিসিতে ইন্সটল করে দেন যা এক চরম বোকামি। এই ক্রেক সফটওয়্যারগুলো ক্লায়েন্টের পিসিতে ভাইরাস ঢুকিয়ে কীভাবে তার মহামূল্যবান ডাটা চুরি করে আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াতে পারে তা কি আপনি জানেন?
পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার ক্ষেত্রে উইন্ডোজের নিজস্ব টুলস বা একদম পরিচিত এবং বিশ্বস্ত ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ক্লায়েন্টের পার্সোনাল ফোল্ডার বা ব্রাউজারের পাসওয়ার্ড সেভ করা ক্যাশ ফাইলগুলোতে ভুলেও হাত দেওয়া আপনার জন্য একদম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আপনার সামান্য একটু অতিরিক্ত উৎসাহের কারণে ক্লায়েন্টের কোনো দরকারি ডাটা হারিয়ে গেলে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে কী ভয়াবহ সুনামি নেমে আসবে তা কি ভেবে দেখেছেন?
আরো পড়ুনঃ একটানা বসে কাজ করার পর ঘাড় ব্যথা কমানোর উপায়
কাজ শুরু করার আগে ক্লায়েন্টকে কখনোই এমন কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেবেন না যা আপনি তার পুরোনো হার্ডওয়্যারে কোনোভাবেই দিতে পারবেন না। পনেরো বছরের পুরোনো একটি স্লো হার্ডডিস্ককে অপটিমাইজ করে আপনি কখনোই তাকে এসএসডির মতো রকেটের স্পিড দিতে পারবেন না, এই চরম সত্যটি তাকে আগেই বুঝিয়ে বলুন। ক্লায়েন্টের এক্সপেক্টেশন বা প্রত্যাশা কন্ট্রোল করার এই স্মার্ট টেকনিকটি কীভাবে আপনাকে বাজে রিভিউ পাওয়ার হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষিত রাখবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
এনিডেস্কে বা টিমভিউয়ারে কাজ করার সময় ক্লায়েন্ট যদি তার স্ক্রিনের সামনে বসে থাকে, তবে তাকে প্রতিটি স্টেপ মুখে বলে বুঝিয়ে দিন আপনি কী করছেন। আপনার এই স্বচ্ছতা এবং কাজের প্রতি ডেডিকেশন দেখে ক্লায়েন্ট অনুভব করবে যে তার সাধের কম্পিউটারটি একদম সঠিক এবং একজন বিশ্বস্ত এক্সপার্টের হাতেই রয়েছে। এই সততা এবং প্রফেশনালিজম বজায় রেখে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কোন অনন্য উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছাবে তা কি আপনি কল্পনা করতে পারেন?
আপনার এই নতুন টেক স্কিলকে একটি আইটি এজেন্সিতে রূপান্তর
একটি সাধারণ স্কিল দিয়ে শুরু করলেও আপনার লক্ষ্য কখনোই শুধু ফাইভারে কয়েকটা অর্ডার পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। যখন আপনি দেখবেন আপনার হাতে প্রচুর ক্লায়েন্ট আসছে এবং আপনি একা সব কাজ সামলাতে পারছেন না, তখন সময় আসবে গেমটি চেঞ্জ করার। এই ছোট অপটিমাইজেশনের স্কিলটিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আপনি একটি বিশাল ব্যবসার মডেল দাঁড় করাবেন তা কি আপনি জানেন?
আপনার ভার্সিটির বন্ধুদের নিয়ে ছোট একটি টিম তৈরি করুন যারা আপনার মতোই টেক স্যাভি এবং কাজ শিখতে অত্যন্ত আগ্রহী। তাদের পিসি অপটিমাইজ ও রেজিস্ট্রি এডিট করে ফ্রিল্যান্সিং আয় করার এই সিক্রেট ট্রিকসগুলো শিখিয়ে আপনার কাজের চাপ তাদের মাঝে ভাগ করে দিন। আপনার নেতৃত্বে একটি দক্ষ টিম যখন দিনরাত ক্লায়েন্টদের সাপোর্ট দেবে, তখন আপনার একাউন্টে কী পরিমাণ ডলার জমা হবে তা কি ভেবেছেন?
এই টিমটিকে আরও প্রফেশনাল রূপ দেওয়ার জন্য প্রাইম ফ্রিল্যান্স আইটি এর মতো একটি ব্র্যান্ড বা এজেন্সি গঠন করাটা হবে আপনার সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। একটি প্রফেশনাল এজেন্সি নাম এবং ওয়েবসাইট থাকলে বিদেশি ক্লায়েন্টরা আপনাকে সাধারণ ফ্রিল্যান্সারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সম্মান এবং পেমেন্ট করবে। নিজের নামে একটি আইটি এজেন্সির ফাউন্ডার বা লিডার হওয়ার এই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার পর আপনার পরিবারের মানুষের রিঅ্যাকশন কেমন হবে?
এজেন্সির মাধ্যমে আপনি শুধু পিসি স্পিড আপ নয়, বরং পরবর্তীতে ডাটা রিকভারি বা সাইবার সিকিউরিটির মতো আরও অনেক প্রিমিয়াম সার্ভিস অফার করতে পারবেন। আপনার এই ছোট একটি শুরু কীভাবে আপনাকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষ একজন আইটি উদ্যোক্তায় পরিণত করবে তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের এই রোমাঞ্চকর জার্নিতে কখনো হতাশ না হয়ে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ধরে রাখাটাই হলো সফলতার আসল চাবিকাঠি। আপনার ভেতরের সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজই আপনার নিজের পিসিতে এই ট্রিকসগুলো প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিন। আপনি কি আপনার মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে নিজের ভাগ্য নিজে বদলাতে আজ মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন?
আমার নিজের প্রথম ক্লায়েন্টের রোমাঞ্চকর গল্প
আমি যখন প্রথম এই অপটিমাইজেশনের কাজটি শিখি, তখন আমার নিজের পিসি ছাড়া প্র্যাকটিস করার মতো আর কিছুই ছিল না। মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খোলার পর টানা এক মাস কোনো কাজ না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে যখন আমি গিগের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, তখন মনের ভেতর ভীষণ কষ্ট হতো। কিন্তু একদিন মাঝরাতে হঠাৎ আসা সেই প্রথম মেসেজটি কীভাবে আমার পুরো জীবন জাদুর মতো বদলে দিয়েছিল তা কি আপনি জানেন?
সেই প্রথম ক্লায়েন্টের দশ বছরের পুরোনো একটি ল্যাপটপকে আমি যখন রকেটের মতো ফাস্ট করে দিলাম, তখন সে খুশি হয়ে আমাকে কুড়ি ডলার টিপস দিয়েছিল। সেই প্রথম ইনকামের অনুভূতি আমাকে যে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, তা আজ আমাকে এই বিশাল আইটি ক্যারিয়ারের চূড়ায় নিয়ে এসেছে। আমার এই গল্পটি প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে আপনিও সফল হবেন, আপনার সেই প্রথম ক্লায়েন্টের জন্য আপনি কবে থেকে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন?
PRIME IN SITE নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। স্প্যাম বা আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেলা হতে পারে।
comment url