ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম জানা থাকলে রাস্তায় গাড়ি
চালানোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। রাস্তায় গাড়ি চালানোর স্বপ্ন
দেখছেন, কিন্তু রোড টেস্ট ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আছেন। এটা খুবই
স্বাভাবিক।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কিভাবে আপনি সঠিক নিয়মে টেস্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন, কি কি দক্ষতা শিখতে পারবেন এবং পরীক্ষার দিন ঠিক কিভাবে আপনি নিজের সর্বোত্তম দেখাতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
-
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
-
রোড টেস্ট কি এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
-
রোড টেস্ট এর আগে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও আইনের প্রস্তুতি
-
প্রাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণের গুরুত্ব একজন ভালো ইন্সট্রাক্টর বাছাই
-
গাড়ির ড্রাইভ চেক ও ককপিট ড্রিল
-
সঠিকভাবে গাড়ি স্টার্ট করা ও প্রথম চলাচল
-
ট্রাফিক সাইন সিগন্যাল ও লেন ডিসিপ্লিন মেনে চলা
-
স্পিড কন্ট্রোল গিয়ার পরিবর্তন ও ব্রেকিং দক্ষতা
-
পার্কিং এবং থ্রি পয়েন্ট টার্ন
-
শেষ কথাঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম জানা থাকলে এই ভয় জয় করা কঠিন কিছু নয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের শেষ বাধাটি হলো রোড টেস্ট বা ব্যবহারিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার কথা ভেবেই অনেকের ঘাম ছুটে যায়। মনে রাখবেন রোড টেস্ট আপনার গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাই করার জন্য, আপনাকে বিব্রত করার জন্য নয়। সঠিক প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসই পারে আপনাকে প্রথম চেষ্টাতেই এই চূড়ান্ত ধাপটি পেরিয়ে একজন লাইসেন্সধারী ড্রাইভারে পরিণত করতে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির জন্য প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত হাতে-কলমে অনুশীলন। শুধু থিউরি জানলেই হবে না, আপনাকে ট্রাফিকের মধ্যে গাড়ি চালানোর রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স অর্জন করতে হবে। একজন ভালো ও অভিজ্ঞ ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর এর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন করুন। শুধু ফাঁকা মাঠে নয়, বরং ব্যস্ত রাস্তা সংকীর্ণ গলি ইন্টার সেকশন এবং রুফটপ পার্কিংয়ে চালানোর অভিজ্ঞতা নিন।
আরো পড়ুনঃ রেল সেবা ই-টিকিট অ্যাপে User login is failed সমস্যার সমাধান
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম বলছে যত বেশি বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতিতে চালাবেন, পরীক্ষার দিন ততবেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। পরীক্ষায় বসার আগে আপনার ট্রাফিক সায়েন্স সিগন্যাল এবং মার্কিন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। স্টপ সাইন জেব্রা ক্রসিং স্পিড লিমিট ওয়ান ওয়ে রোড এসবের গুরুত্বতা ভালো করে বুঝে নিন। রাস্তায় চলার সময় শুধু সামনেই না আপনার মিরর এবং ব্লাইন্ড স্পটে ও সমান নজর দিতে হবে।
রাস্তায় চলার সময় শুধু সামনেই না, আপনার মিরর এবং ক্লাইন্ট স্পটেও সমান নজর দিতে হবে। লেন পরিবর্তন বা টার্ন নেওয়ার আগে অবশ্যই ইন্ডিকেটর দিয়ে মিরর চেক করে এবং কাধ ঘুরিয়ে ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়মে এই পরীক্ষক সবচেয়ে বেশি খুঁজে দেখেন। উপরের সমস্ত নিয়মকানুন মেনে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে, আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া খুবই সহজ হয়ে উঠবে।
রোড টেস্ট কি এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির নিয়ম জানার আগে বুঝতে হবে রোড টেস্ট আসলে কি এবং এটা কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ। রোড টেস্ট বা ব্যবহারিক পরীক্ষা হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত পরিক্ষক আপনার গাড়িতে বসেন এবং আপনি রাস্তায় গাড়ি চালান। তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন যে, আপনি ট্রাফিক আইন ও নিয়ম কানুন মেনে নিরাপদে এবং নিয়ন্ত্রিত ভাবে গাড়ি চালাতে পারেন কিনা। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির জন্য এইসব নিয়ম না মানলে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্যই হলো রাস্তায় আপনার নিজের এবং অন্যান্য রোড
ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি শুধু আপনার দক্ষতা যাচাই করা নয়, বরং
আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ট্রাফিক সচেতনতা এবং চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায়
থাকার ক্ষমতাও পরীক্ষা করে। এই সকল নিয়ম রপ্ত করা মানে আপনি শুধু পরীক্ষা পাশের
জন্যই নয়, ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ড্রাইভার হওয়ার জন্য প্রস্তুত
হচ্ছেন।
রোড টেস্ট এর আগে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও আইনের প্রস্তুতি
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়মের প্রথম ভিত্তি হলো ট্রাফিক আইন সাইনবোর্ড এবং গাড়ি চালানোর নিয়ম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তাত্ত্বিক জ্ঞান। আপনি যদি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে থাকেন, তবুও রোড টেস্টের আগে সেই জ্ঞান আবার ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় আপনার সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন সাইন কি নির্দেশনা দিচ্ছে। প্রথমে বাংলাদেশের ট্রাফিক সাইন বোর্ড গুলো প্রত্যেকটার অর্থ জানুন। দ্বিতীয় দফা গাড়ির বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
আপনি পরীক্ষককে বলতে পারবেন এমন ক্লাস, ব্রেকিলারেটর হ্যান্ড ব্রেক, ইন্ডিকেটর
হেডলাইট ওয়িপার হর্ন গিয়ার লিভার ইত্যাদি। ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড প্রস্তুতির
সঠিক নিয়ম বলছে পরীক্ষা শুরুতেই পরীক্ষক আপনাকে গাড়ির কিছু কন্ট্রোল বাতি চালু
বন্ধ করতে বলতে পারেন। তৃতীয়তও গাড়ি চালানোর মৌলিক নিয়মাবলী যেমন রাস্তার কোন
অংশে গাড়ি চালাবেন, ওভার টেকিং এর নিয়ম রাউন্ডার রাউটার প্রবেশ ও বের হওয়ার
পদ্ধতি স্কুল বা হাসপাতালে কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা জানতে হবে।
প্রাকটিকাল প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও একজন ভালো ইন্সট্রাক্টর বাছাই
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড প্রস্তুতির সঠিক নিয়মের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর অংশ হলো হাতে কলমে প্রচুর অনুশীলন বা প্রাকটিকাল ট্রেনিং। আপনি তাত্ত্বিক ভাবে যতই ভালো জানেন না কেন, রাস্তায় গাড়ি চালানোর দক্ষতা শুধু অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। আর এই অনুশীলনের জন্য আপনার দরকার একজন ভালো অভিজ্ঞ এবং ধৈর্যশীল ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর। ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড প্রস্তুতির নিয়ম শুরু হয় একজন যোগ্য ইন্সপেক্টর খুঁজে পাওয়া দিয়ে।
একজন ভালো ইন্সট্রাক্টর শুধু গাড়ি চালানো শেখায় না। তিনি আপনাকে ট্রাফিকের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং ভুলগুলো শুধরে নিতে সাহায্য করেন। তিনি রোড টেস্টের সাধারণ রুট পরীক্ষকরা কি কি দিকে খেয়াল করেন এবং কি সাধারণ ভুলের কারণে প্রার্থীরা ফেল করে তা জানেন। তাই ইন্সট্রাক্টর বাছাই করার সময় তার অভিজ্ঞতার শিক্ষাদানের পদ্ধতি এবং ধৈর্য যাচাই করুন।
গাড়ির প্রি ড্রাইভ চেক ও ককপিট ড্রিল
ড্রাইভিং লাইসেন্সের টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পরীক্ষা শুরু করার আগে গাড়ির অবস্থা যাচাই করা। যাকে প্রি ড্রাইভ চেক বা ককপিড ড্রিল বলে। রোড টেস্টের দিন পরীক্ষক গাড়িতে বসার পর প্রথমেই আপনাকে গাড়ির কিছু বেসিক যন্ত্রাংশ চালু বা বন্ধ করতে বলতে পারেন। অথবা গাড়ির বাইরে গিয়ে কিছু নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। এটি আপনার গাড়ির যান্ত্রিক জ্ঞান ও সচেতনতা পরীক্ষা করে। ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম মেনে এই অংশে ভালো করতে পারলে প্রথমেই একটি ইতিবাচক ছাপ তৈরি হবে।
প্রথমে পরীক্ষক আপনাকে গাড়ির বাইরে কিছু চেক করতে বলতে পারেন। যেমন টায়ারের
অবস্থা ও চাপ পরীক্ষা। হেডলাইট টেল লাইট ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর লাইট কাজ করছে
কিনা দেখা। উইন্ড স্কিন ও জানালা পরিষ্কার কিনা দেখা। আপনি এসব চেক করতে গিয়ে
প্রতিটি কাজের নাম উচ্চস্বরে বলতে পারেন। এরপর গাড়ির ভিতরে বসে পরীক্ষক আপনাকে
বিভিন্ন কন্ট্রোল চালু করতে বলবেন। যেমন হেডলাইট ওয়াই পার চালানো হ্যাজার্ড লাইট
জালানো হর্ন বাজানো হ্যান্ডউইক লাগানো ও ছাড়ানো ইত্যাদি।
সঠিকভাবে গাড়ি স্টার্ট করা ও প্রথম চলাচল
ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম এর মূল অধ্যায় শুরু হয় যখন আপনি গাড়ি স্টার্ট করে রাস্তায় নামতে যাবেন। এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে ভুল করলে সরাসরি নেগেটিভ মার্ক বা ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। প্রথমেই গাড়ির সিট ও স্টিয়ারিং সঠিক ভাবে সেট করুন। আপনার পা সহজে ক্লাস ব্রেক ও এক্সিলারেটরের পৌঁছাবে এবং হার্ট স্টিয়ারিং স্বাচ্ছন্দে থাকবে।
আরো পড়ুনঃ এনজিও চাকরির বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ অনলাইনে আবেদন
এমনভাবে সিট ঠিক করুন, সিট প্যান্ট লাগানো নিশ্চিত করুন এবং পরীক্ষককেও সিটবেল্ট
লাগাতে বলুন। এটি একটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিয়ম। এরপর আপনার ডোর মিরর ও সাইড
গুলোর সঠিকভাবে সেট করুন। ডোর মিররে আপনার গাড়ির পিছনে রাস্তার একটি ছোট অংশ এবং
আকাশের রেখা দেখা উচিত। সাইড মিরোর গুলো এমন ভাবে সেট করুন, যাতে পিছনে গাড়ি ও
আপনার নিজের গাড়ির সামান্য অংশ দেখা যায়।
ট্রাফিক সাইন্স সিগনাল ও লেন ডিসিপ্লিন মেনে চলা
রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম এর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ট্রাফিক সাইন্স সিগন্যাল মেনে চলা। পরীক্ষক বিশেষ নজর দেবেন আপনি রাস্তার বিভিন্ন সাইনবোর্ড এবং ট্রাফিক লাইট সঠিকভাবে মানছেন কিনা। একটি স্টপ সাইনের সামনে আপনাকে সম্পূর্ণ থামতে হবে। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে। তারপর নিরাপদ মনে হলে রাস্তায় প্রবেশ করতে হবে। হলুদ বাতি মানে প্রস্তুত হওয়া। থামার চেষ্টা করা না হলে সাবধানে পার হওয়া। কখনোই লাল বাতি পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
ল্যান্ড ডিসিপ্লিন রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তায় সাদা ও হলুদ লাইন দ্বারা চিহ্নিত লেনগুলো মেনে চলতে হবে। কোন লাইনে কি ধরনের যান চলাচল করবে তা খেয়াল রাখুন। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম মেনে আপনাকে সর্বদা বাংলায় লেনের ব্যবহার এর চেষ্টা করতে হবে। ডার্লিং শুধু ওভারটেকিং বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহার করবেন। লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই ইন্ডিকেটর দিবেন। মিরর ও ব্লাইন্ড স্পোর্ট চেক করবেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অন্য লাইনে যাবেন। হট হট করে লেন পরিবর্তন করা যাবে না।
স্পিড কন্ট্রোল গিয়ার পরিবর্তন ও ব্রেকিং দক্ষতা
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম এর একটি অপরিহার্য দক্ষতা হলো সঠিক গতিতে গাড়ি চালানো এবং গিয়ার পরিবর্তন ও ব্রেকিং নিয়ন্ত্রণ করা। স্পিড সবসময় রাস্তার অবস্থা ট্রাফিকের ঘনত্ব আবহাওয়া এবং স্পিড লিমিটেড সাইন এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। শহরের ভিতরে সাধারণত গতি কম রাখতে হয়। অন্যদিকে খোলা মহাসড়কে নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে গতি বাড়ানো যায়। কিন্তু পরীক্ষার সময় সাধারণত নির্দিষ্ট স্পিড লিমিট এর মধ্যেই থাকতে বলা হয়। অতিরিক্ত গতি বা অস্বাভাবিক ধীরগতি উভয়ই নেতিবাচক নম্বর পেতে পারে।
গিয়ার পরিবর্তন হতে হবে মসৃণ এবং সময়োপযোগী। ইঞ্জিনের আরপিএম বেশি উঠলে বা গতি
বাড়লে উপরের গিয়ারে এবং গতি কমলে বা ইঞ্জিনের শব্দ ভারী হলে নিচের গিয়ারে
যাবেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম বলে গিয়ার পরিবর্তনের সময়
ক্লাস সম্পূর্ণ চেপে ধরতে হবে এবং কাজ শেষে ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। হঠাৎ করে ক্লাস
ছাড়লে গাড়ি ঝাকি খাবে। যা পরীক্ষকের নজর এরাবে না। স্টিয়ারিং হাতে রেখে
দক্ষতার সাথে গিয়ার পরিবর্তন করতে হবে।
পার্কিং এবং থ্রি পয়েন্ট টার্ন
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুতির সঠিক নিয়মের সবচেয়ে কঠিন ও মার্ক কাটার অংশগুলোর মধ্যে আছে পার্কিং এবং ৩.১ টার্ম। এই গুলোতে অনেক প্রার্থী ভুল করেন। পরীক্ষক আপনাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সমান্তরাল পার্কিং বা ব্যাক পার্কিং করতে দেবেন। সমান্তরাল পার্কিংয়ের জন্য আপনি রাস্তায় পাশে দাঁড়ানো দুটি গাড়ির মাঝে আপনার গাড়ি পার্ক করবেন এ জন্য প্রথমে পাশের গাড়ির সাথে সমান্তরাল হয়ে দাঁড়াবেন। তারপর ব্যাক গিয়ারে গাড়ি পিছনে নিয়ে স্টিয়ারিং সঠিক দিকে ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট স্পেস এ গাড়ি রাখবেন।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম
ব্যাক পার্কিং সাধারণত পার্কিং লটে একটি নির্দিষ্ট বক্সের মধ্যে গাড়ি পার্ক করার
জন্য বলা হয়। এজন্য আপনাকে সঠিক ভাবে গাড়ির অবস্থান নিতে হবে। মিরর ও সরাসরি
পিছনে তাকিয়ে দেখে ধীর গতিতে পিছিয়ে গাড়ি সোজা করতে হবে। বারবার মিরর চেক করার
ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা এবং খুব ধীর গতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা। পার্কিং শেষে
গাড়ি সোজা থাকতে হবে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পার্কিং থেকে বের
হওয়ার সময় ইন্ডিকেটর দিয়ে চারদিকে দেখে এবং ধীরে বের হতে হবে।
শেষ কথাঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির সঠিক নিয়ম রপ্ত করতে হলে আগে থেকে জেনে
রাখা ভালো যে, সাধারণত কোন কোন ভুলের কারণে প্রার্থীরা ব্যর্থ হন। এই ভুলগুলো
এড়িয়ে চললেই আপনি সফলতার কাছাকাছি পৌঁছাবেন। প্রথম এবং প্রধান ভুল হল মিরর ও
ব্লাইন্ড স্পট চেক না করা। লেন পরিবর্তন বা টার্ন নেওয়ার সময় শুধু মিরর দেখে
কাজ সেরে ফেলা। কিন্তু কাধ ঘুরিয়ে ব্লাইন্ড স্পট না দেখা। দ্বিতীয় বড় ভুল হলো
ইন্টার সেকশন এ থামতে ভুলে যাওয়া বা ট্রাফিক সিগন্যাল লঙ্ঘন করা। তৃতীয় ভুল হল
স্পিড কন্ট্রোল না করা। খুব ধীরে চালানো বা স্পিড লিমিট ছাড়িয়ে যাওয়া।
গাড়ি চালানোর সময় চারিদিকে যথেষ্ট অনুশীলন করুন। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন খুব
বেশি চাপ নেবেন না। আপনার ইন্সট্রাক্টরের পরামর্শ মেনে চলুন। মনে রাখবেন রোড
টেস্ট পাশ করা মানে শুধু লাইসেন্স পাওয়া নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল রোড
ব্যবহারকারী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। ড্রাইভিং লাইসেন্স রোড টেস্ট প্রস্তুতির
নিয়ম মেনে আপনি যখন সফল হবেন, তখন শুধু গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবেন না। বরং
আত্মবিশ্বাসও পাবেন। যে আপনি নিজেকে এবং অন্যদের নিরাপদ রেখে রাস্তায় চলতে
পারবেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।



ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url