চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইড লাইন জানা থাকলে আপনি সহজেই এমন একটি জীবন
বৃত্তান্ত তৈরি করতে পারবেন, যা নিয়োগ কর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং
আপনাকে একটি সুন্দর ও পরিপাটি ইন্টারভিউ এর সুযোগ করে দিবে।
বাংলাদেশের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক তীব্র। আজকের আর্টিকেলে আপনি শিখতে পারবেন কিভাবে ধাপে ধাপে একটি প্রফেশনাল, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসু সিভি তৈরি করবেন। যা বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই কার্যকর হবে।
পেজ সূচিপত্রঃ চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
-
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
-
সিভি কেন গুরুত্বপূর্ণ জেনে নিন
-
সিভি বানানোর আগে কিছু প্রস্তুতি
-
সিভির গঠন ও বিন্যাস সম্পর্কে জানুন
-
নাম ও যোগাযোগের তথ্য সঠিকভাবে দিন
-
ক্যারিয়ার সামারি বা প্রোফাইল স্টেটমেন্ট
-
কর্মের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান
-
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দিন
-
আপনার দক্ষতা সম্পর্কে লিখুন
-
শেষ কথাঃ চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন জানা সবার জন্যই অপরিহার্য একটি দক্ষতা। চাকরি পাওয়ার লড়াইয়ে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো একটি ভালো সিভি। যখন আপনি ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার আগেই আপনার সিভি নিয়োগ কর্তার সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়। একটি আদর্শ সিভি শুধু আপনারা অভিজ্ঞতার তালিকা নয়, বরং আপনার পেশাগত ব্যক্তিত্বের একটি মার্কেটিং ডকুমেন্ট। চলুন জেনে নেই কিভাবে আপনি এমন একটি সিভি তৈরি করবেন। যা নিয়োগ কর্তাকে মুগ্ধ করবে।
একটি প্রফেশনাল সিভির শুরুটাই হয় এর চেহারা দিয়ে। পরিষ্কার এবং পড়তে সহজ ফরমেট বেছে নিন। ফ্রন্ট হিসেবে এরিয়াল ব্যবহার করুন। সাইজ রাখুন ১১ বা ১২। মাত্র ১ বা ২ পৃষ্ঠার মধ্যে সব তথ্য সাজানোর চেষ্টা করুন। সিভির শুরুতেই আপনার নাম, যোগাযোগের নম্বর এবং লিঙ্ক ইন প্রোফাইল এর লিংক দিন। একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার সামারি বা প্রোফাইল স্টেটমেন্ট দিন। যেখানে দুইবার তিন লাইনে বলুন আপনি কে, আপনার কি অভিজ্ঞতা আছে এবং আপনি কি করতে চান।
এই সংক্ষিপ্ত অংশটি নিয়োগ কর্তাকে বাকিটা পড়তে উৎসাহিত করবে। আপনার কাজের অভিজ্ঞতার অংশটি সিভির মূল অংশ। সর্বশেষ চাকরিটি প্রথমে উল্লেখ করুন। প্রতিটি চাকরির জন্য কোম্পানির নাম, আপনার পদবী, কাজের সময়কাল এবং আপনার দায়িত্বের পাশাপাশি অর্জন গুলো সংখ্যার মাধ্যমে তুলে ধরুন। শুধু বিক্রয় বাড়ানো জন্য লিখুন ৬ মাসে বিক্রয় ২০ পার্সেন্ট বৃদ্ধি। যদি আপনি ফ্রেশ হন, তাহলে ইন্টারনেট একাডেমীক প্রজেক্ট কাজের বিবরণ দিন।
আরো পড়ুনঃ এনজিও চাকরির বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ অনলাইনে আবেদন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর জন্য আপনার এই অর্জন গুলোই আপনাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করবে। এছাড়াও আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি থেকে শুরু করুন। প্রতিষ্ঠান, পাশের সাল এবং জিপিএ, সি জি পি এ উল্লেখ করুন। এরপর আসে দক্ষতার অংশ। এখানে কারিগরি দক্ষতা গুলো আপনি খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করুন।
সিভি কেন গুরুত্বপূর্ণ জেনে নিন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করার আগে বুঝতে হবে সিভি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নিয়োগকর্তা ঘরে মাত্র ছয় থেকে সাত সেকেন্ড সময় দেন। একটি সিভি স্ক্যান করতে এই অল্প সময়ে আপনার ছবি যদি তার দৃষ্টি আকর্ষণ না করে, তাহলে সেটা সরাসরি বাতিলের স্তুপে জমা পড়ে যাবে। আপনি যখন সাক্ষাৎকারে নেই, তখনো আপনার প্রতিনিধিত্ব কারী হয়তো আপনার থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিবি আপনার এমন একটি প্রমাণ পত্র যেখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং অর্জনের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী সারসংক্ষেপ।
চাকরির জন্য সিভি বানানোর সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক সিভি তৈরি করলে তা আপনার যোগ্যতা
হাইলাইট করে এবং নিয়োগকর্তাকে বোঝায় যে আপনি সেই পদের জন্য উপযুক্ত একজন
প্রার্থী। এছাড়াও সিভি শুধু মাত্র তথ্যের তালিকা নয়, এটি আপনার যোগাযোগের
দক্ষতা বিন্যাসের ক্ষমতা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। একটি অগোছালো ভুল তথ্যপূর্ণ
বা অসম্পূর্ণ সিভি আপনার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। এমনকি যদি আপনি কৃতজ্ঞ
হন অন্যদিকে একটু পরিষ্কার সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য ভিত্তিক সিভি আপনাকে অন্য সকল
প্রার্থী থেকে আলাদা করে দেবে।
সিভি বানানোর আগে কিছু প্রস্তুতি
চাকরির জন্য সিভি বানানোর সঠিক প্রক্রিয়ার বা নিয়মের প্রথম ধাপ হলো সিভি লেখার আগে নিজের সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি করা। আপনার পুরো শিক্ষা ও কর্ম জীবনের একটি টাইম লাইন তৈরি করুন। আপনার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি, এইচএসসি স্নাতক পজিশনের নাম বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গ্রেট সিজিপিএ পাশের সাল নোট করুন। এরপর আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে কোন সময় পর্যন্ত কাজ করছেন। আপনার মূল দায়িত্ব গুলো কি ছিল এবং বিশেষ কোনো সাফল্য ছিল কিনা।
যেমন বিক্রয়ের বৃদ্ধি খরচ কমানোর নতুন কোন প্রক্রিয়া চালু করা। এরপর আসে দক্ষতা
এর তালিকা। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইড লাইন অনুযায়ী দক্ষতা গুলোকে সাধারণত
তিন ভাগে ভাগ করা যায়। কারিগরি দক্ষতা, স্থানান্তর যোগ্য দক্ষতা এবং ভাষাগত
দক্ষতা। আপনার সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা এক্সট্রা কারিকুলাম
অর্জন গুলো লিখে ফেলুন। সবশেষে চাকরির বিজ্ঞাপন টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং সেই
পদে কোন গুণাবলী যোগ্যতা অভিজ্ঞতা চাওয়া আছে তা হাইলাইট করুন।
সিভি গঠন ও বিন্যাস সম্পর্কে জানুন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর সঠিক গাইড লাইনের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হলো এর গঠন ও বিন্যাস একটি সুন্দর বিন্যাস নিয়োগ কর্তাকে সহজে তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। প্রথমে একটি ফন্ট ব্যবহার করুন। ফন্ট সাইজ ১১ বা ১২ এর ভিতরে রাখুন। পৃষ্ঠার মার্জিন পর্যাপ্ত রাখুন। সিভি একবার দুই পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন। যদি আপনি খুব অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন, বোল্ড করে এবং একটু বড় ফ্রন্টে লিখুন। সিভির শুরুতে অবশ্যই আপনার যোগাযোগের তথ্য রাখুন, নাম ফোন নাম্বার, পেশাদার ইমেইল ঠিকানা।
আপনার যদি লিংক ইন প্রোফাইল থেকে থাকে তাহলে সেই প্রোফাইলে লিংক দিন এবং বর্তমান ঠিকানা দিন। তারপর একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার সামারি বা প্রোফাইল স্টেটমেন্ট লিখুন। আপনি কে এবং আপনি কি করতে চান তা সংক্ষেপে বলবেন। এরপর আপনার কর্মের অভিজ্ঞতা ক্রমানুসারে রাখুন। সাম্প্রতিক কাজটি সবার আগে তারপর শিক্ষাগত যোগ্যতা দক্ষতা সার্টিফিকেশন ও প্রশিক্ষণ ভাষার দক্ষতা এবং রেফারেন্স পরবর্তী অংশটিতেই রাখবেন। এভাবে সিভি রেখে আপনার সিভির গঠন ও বিন্যাস অনেক সুন্দর এবং সুগঠিত হয়ে উঠবে।
নাম ও যোগাযোগের তথ্য সঠিকভাবে দিন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর সঠিক গাইডলাইন অনুযায়ী সিভির শীর্ষে আপনার নাম ও যোগাযোগের তথ্য এমন ভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে নিয়োগ কর্তার সহজে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার পুরো নামটি স্পষ্ট ও বোল্ড করে উপরে লিখুন। নামের বানান নিশ্চিত করুন এবং সঠিক ভাবে যাচাই করুন। এর নিচে দিন আপনার ফোন নম্বর। যেটা আপনি করে থাকেন তারপর একটি আপনার নাম এর একটি ইমেইল ব্যবহার করুন। অন্য কোনো নামের ইমেইল ব্যবহার করবেন না।
এটি অনেকটা অপেশাদার মনে হয়। এরপরে আপনার লিঙ্ক ইন প্রোফাইল এর লিংক দিন। যদি আপনার প্রোফাইল আপডেট এবং পেশাদার হয়ে থাকে। নিয়োগ কর্তারা এখন প্রায়ই লিংক ইন চেক করেন। আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট শহরে চাকরি করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করতে পারেন। সম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়ার একদম কোন প্রয়োজন নেই। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইড লাইন বলে কোনো ভাবেই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, ধর্ম বৈবাহিক অবস্থা বা ছবি যোগ করবেন না।
ক্যারিয়ার সামারি বা প্রোফাইল স্টেটমেন্ট
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইড লাইন এর একটি শক্তিশালী অস্ত্র হলো ক্যারিয়ার সামারি বা প্রোফাইল স্টেটমেন্ট এটি সিভির শুরুতেই যোগাযোগ তথ্যের পরে একটি ২ ৪ লাইনের শক্তিশালী বিবৃতি যা নিয়োগ কর্তাকে সাথে সাথে বুঝিয়ে দেয়। আপনি কে, আপনার কি অভিজ্ঞতা আছে এবং আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানে কি অবদান রাখতে পারেন। এটি কোনো ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ নয়। যেখানে আপনি শুধু বলবেন একটি চ্যালেঞ্জিং পথ চাই। আপনার মূল্য তুলে ধরে একটি ভালো প্রোফাইল স্টেটমেন্ট এ তিনটি জিনিস থাকবে।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম
আপনার পেশাগত পরিচয় ও বছরের অভিজ্ঞতা আপনার মূল দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞতা এবং আপনি কি অর্জন করতে চান বা করতে পারবেন। চাকরির জন্য সিভি বানানোর এসব গাইডলাইন মেনে এই বিবৃতিটি প্রতিটি চাকরির জন্য সামান্য পরিবর্তন করে যাচাই করুন। একজন সত্য স্নাতক ডিগ্রী ধারীর জন্য হতে পারে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন আগ্রহী ও কঠোর পরিশ্রমী প্রার্থী। যার পাইথন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট দক্ষতা আছে এবং একটি ইনোভেটিভ টিমে অংশগ্রহণ করে ব্যবহৃত জ্ঞান বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক।
কর্মের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান
চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইডলাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো কর্ম অভিজ্ঞতার অংশটি যদি আপনার পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তাহলে এটি সিভির মূল অংশ হতে পারে। এখানে শুধু কাজের দায়িত্বের তালিকা নয়, আপনার সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরতে হবে। প্রথমে সাম্প্রতিক কাজটি দেখুন এবং ক্রমানুসারে আগের দিকে এগিয়ে যান। প্রতিটি কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম আপনার পদবী কাজের সময়সীমা এবং প্রতিষ্ঠানের অবস্থান উল্লেখ করুন।
শুধু দায়িত্ব পালন দেখবেন না, বরং লিখুন গ্রাহক সেবা দিয়ে মাসিক ১৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত বিক্রয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা বা নতুন গ্রাহক অর্জনের জন্য একটি কৌশল প্রস্তুত করা। যার ফলে মাসিক লক্ষ্যমাত্রা ১০% ছাড়িয়ে যায়। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইড লাইন বলে অর্জন গুলোতে সংখ্যা ব্যবহার করুন। এটি আপনার অবদানকে পরিমাপ যোগ্য ও বিশ্বাস যোগ্য করে তোলে।
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দিন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইডলাইনের পরের ধাপ হলো শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশ সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। এখানে আপনার সর্বোচ্চ ডিগ্রি থেকে শুরু করে নিচের দিকে যাবেন। অর্থাৎ যদি আপনার মাস্টার্স ডিগ্রি থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে মাস্টার্স তারপরে স্নাতক তারপর উচ্চ মাধ্যমিক তারপর মাধ্যমিক প্রতিটি ডিগ্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ডিগ্রির নাম বিষয় বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড পাশের সাল এবং সিজিপিএ গ্রেট ডিভিশন উল্লেখ করুন। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইডলাইন বলে যদি আপনি বর্তমানে কোন ডিগ্রিতে অধ্যায়নরত থাকেন।
তাহলে অধ্যায়নরত উল্লেখ করুন এবং সম্ভাব্য সমাপ্তের সাল দিন। আপনি যদি কোন বিশেষ একাডেমী প্রজেক্ট থিস বা গবেষণা পত্রের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে থাকেন। সেগুলোও আলাদাভাবে বা এই অংশের নিচে যোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ এন্ড অপারচুনাটিজ যেটি বিভাগীয় সেরা থিসিস নির্বাচিত। যারা একদম ফ্রেশ গ্রাজুয়েট তাদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশটি শিবিরের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। তাই এটিকে সুন্দর ও সম্পূর্ণ ভাবে উপস্থাপন করুন।
আপনার দক্ষতা সম্পর্কে লিখুন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইডলাইনের অন্যতম কৌশল কত অংশ হলে দক্ষতা বিভাগটি সঠিকভাবে সাজানো নিয়োগকর্তার দ্রুতই দেখতে চান। আপনার কি কি পারদর্শিতা আছে যা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গুলোকে কয়েকটি উপরিভাগে ভাগ করে দেখানো যেতে পারে। এখানে চাকরি ভেদে প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট দক্ষতা উল্লেখ করুন। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের জন্য মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ এর জন্য একাউন্টের জন্য এই দক্ষতা গুলো যে কোন চাকরিতে কাজে লাগে।
যেমন যোগাযোগ দক্ষতা দলগত ভাবে কাজ করা সমস্যার সমাধান নেতৃত্ব সমভাবে ব্যবস্থাপনা অভিযোজন যোগ্যতা এছাড়াও ভাষাগত দক্ষতা ও অনেক কাজে লাগে। যেমন বাংলা ও ইংরেজিতে ছাড়াও যদি অন্য কোন ভাষা জানেন, তাহলে উল্লেখ করুন। দক্ষতার স্তর নির্দেশ করুন। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইডলাইন বলে শুধু দক্ষতার নাম লিখবেন না।
আরো পড়ুনঃ রেল সেবা ই-টিকিট অ্যাপে User login is failed সমস্যার সমাধান
প্রাসঙ্গিক হলে দক্ষতার স্তরও নির্দেশ করতে পারেন। আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো যে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তার বিজ্ঞাপনে এসে দক্ষতা গুলো চাওয়া হয়েছে। সেগুলো অবশ্যই আপনার দক্ষতার তালিকায় থাকতে হবে। মিথ্যা দক্ষতা যোগ করবেন না। কারণ ইন্টারভিউতে ধরা পড়ে যাবে দক্ষতা গুলো একটি সুন্দর সুন্দর করে বুলেট আকারে তালিকা করে উপস্থাপন করুন।
শেষ কথাঃ চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইডলাইন
চাকরির জন্য সিভি বানানোর বাংলা গাইফলাইন এর চূড়ান্ত ধাপ হল সিভি জমা দেওয়া। সিভি তৈরি করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এটি সঠিকভাবে নিয়োগ কর্তার কাছে পৌঁছানোর। প্রথমে চাকরির বিজ্ঞাপনে কিভাবে সিভি জমা দিতে বলা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে পড়ুন। বলা থাকতে পারে এই নিয়মে জমা দিন। কোম্পানির ওয়েব সাইটে আপলোড করুন বা হাতে তুলে দিন। নির্দেশনা মেনে জমা দিতে হয়, তাহলে এই মেয়াদের সাবজেক্ট লাইন গুরুত্ব দিয়ে লিখুন। যেমন রেফারেন্স নম্বর এ মেয়াদের বডিতে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় কভার লেটার লিখুন।
যদি অনলাইন ফরম পূরণ করে সিভি আপলোড করতে হয়, তাহলে সব নির্দেশনা পড়ুন এবং প্রয়োজনীয় সব ঘর পূরণ করুন। চাকরির জন্য সিভি বানানোর গাইড লাইন শেষ করার পরেও সক্রিয় থাকুন। আপনি কোথায় কোথায় সিভি জমা দিয়েছেন, তার একটি তালিকা রাখুন। যদি ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোন সাড়া না পেয়ে থাকেন, তাহলে একটি পেশাদার ফলোআপ ইমেইল পাঠাতে পারেন। কিন্তু বিরক্তি কর বা খুব ঘন ঘন ফলোআপ করবেন না। আপনার তৈরি কৃত সেরা সিভি এবং সঠিক আবেদন পদ্ধতি আপনাকে সেই কাঙ্ক্ষিত ইন্টারভিউ কোয়ালিটি এনে দেবে। শুভকামনা আপনার চাকরি যাত্রায়।



ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url